চা বাগানের নালাই বিপদকূপ! ফের প্রাণ গেল ফুটফুটে হস্তি শাবকের! এক মাসে দ্বিতীয় মৃত্যুতে শঙ্কা। চা বাগানের নালাই যেন হয়ে উঠছে মৃত্যুকূপ। ফের এক ফুটফুটে ছোট্ট হাতি শাবকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল বানারহাটে। চা বাগানের নালাতে মৃত শাবককে আগলে বসেছিল হস্তি মা। সকাল থেকেই হাতির দলের কিছুক্ষণ পরপর ডাকাডাকির শব্দে বনদফতরের কর্মীরা আসেন।
এই এলাকা থেকে দলটিকে সরিয়ে সামনে গিয়ে দেখা যায় ফুটফুটে একটি ছোট্ট হস্তিশাবকের নালার মধ্যে পড়ে মৃত্যু হয়েছে। এদিন সকালে বানারহাট ব্লকের কাঠালগুড়ি চা বাগানের ১৩ নম্বর ব্লকের একটি নালার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি হাতি শাবকের নিথর দেহ। স্থানীয় শ্রমিকদের চোখে পড়তেই খবর যায় বনদফতরে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বনকর্মীরা মৃতদেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিক অনুমান, অসাবধানতাবশত নালায় পড়ে যায় শাবকটি।
গভীর ও পিচ্ছিল নালার ভিতর থেকে আর উঠে আসতে না পেরেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে বনদফতর। তবে এই ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে অন্য একটি কারণে। ঠিক এক মাস আগেই, গত ২৩ মে, একই বানারহাট ব্লকের কারবালা চা বাগান থেকেও উদ্ধার হয়েছিল আরেকটি হাতি শাবকের মৃতদেহ।
পরপর দুই শাবকের মৃত্যুতে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীদের দাবি, বাগানের ভিতরে ছড়িয়ে থাকা খোলা নালা ও গর্তগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে সুরক্ষিত করা হোক। বিশেষ করে যেসব পথ দিয়ে হাতির দল যাতায়াত করে, সেগুলি আরও নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বনদফতর জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।