: লক্ষ টাকার আম ‘আম আদমির ঘরে’! লক্ষ টাকার আম কিনে খাওয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের বেশ আস্পর্ধা বিষয়। এক কথায় অনেকের শখের মধ্যে এলেও পকেট সঙ্গ দেবে না। তবে সেই লক্ষ টাকার আম বাড়ির বাগানে বা বাড়ির ছাদে লাগিয়েও খাওয়া যায়, এর পাশাপাশি তার স্বাদ বেশ ভালই বলে জানালেন বর্তমানে লক্ষ টাকার আমের মালিক। চলুন এবার আসা যাক লক্ষ টাকার আমের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে। মিয়াজাকি আম একটি দুর্লভ ও বিলাসবহুল জাপানি ফল, যা ‘সূর্যের ডিম’ নামে পরিচিত।
তবে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এই আম একদম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন হয়ত ভাববেন মিয়াজাকি আম মানেই সেই একই গল্প। তবে বীরভূম জেলার এই মিয়াজাকি আম আর পাঁচটা মিয়াজাকি আমের থেকে একদম আলাদা। কেন আলাদা, সেটা বলব একটু পরে। তবে এই মিয়াজাকি আম একদম রুবির মতো লাল ত্বক, মুখে দিলেই গলে যাওয়া মতো নরম ভাব এবং ১৫% চিনির তীব্র উপস্থিতির জন্য এটি আর পাঁচটা আমের থেকে একদম আলাদা এবং বিখ্যাত।
প্রতি কেজি এই আমের দাম আকাশছোঁয়া, যা ২ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর এই কারণে অন্যান্য জেলার মতো বীরভূম জেলার কৃষকেরা ক্রমশ এর চাষ করছেন। তবে কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল এই আম চাষ! এই বিষয়ে জানা যায়, জাপানের কিউশু অঞ্চলের মিয়াজাকি শহর ১৯৮৪ সালে প্রথম চাষ করা হয়। দেখতে পুরোপুরি পেকে গেলে বেগুনি থেকে উজ্জ্বল, অগ্নিবর্ণ লাল হয়ে যায়। এই সমস্ত আম এর একটির ওজন সাধারণত ৩৫০ গ্রামের বেশি হয়। খেতে কেমন! অসাধারণ মিষ্টি, মসৃণ ও মাখনের মতো, সঙ্গে আনারস ও নারকেলের হালকা আভাস।
এই মিয়াজাকি আম নিজের বাড়ির ছাদে লাগিয়েছেন বীরভূম জেলার বোলপুর সুরুল গ্রামের বাসিন্দার সুতপা চক্রবর্তী, এর পাশাপাশি নিজের সামান্য জমিতে এই আমের ফলন ফলিয়েছেন ওই একই গ্রামের বাসিন্দা গড়াই পরিবারের সদস্য সুকান্ত গড়াই, সুকন্যা গড়াই। ২০২৪ সাল থেকে নিজের ছাদ বাগানে মিয়াজাকি আমের ফলন ফলাচ্ছেন সুতপা চক্রবর্তী। তিনি জানান, “বাড়ির ছাদে এত দামি আম গাছ লাগানোই প্রত্যেক বছর এই সময়টা খুব চিন্তার মধ্যে থাকে, মূলত চুরির ভয় থাকে। তাই এই আমের দেখভাল করার জন্য রাতে একটি নিরাপত্তা রক্ষী প্রয়োজন।”