• উর্দি ছেড়ে হাতে ঝাঁটা-কোদাল! স্কুল ছুটির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কী করলে জানেন? কুর্নিশ জানাচ্ছে সবাই
    News18 বাংলা | ০৮ জুন ২০২৬
  • : পুলিশ মানেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন কিংবা তদন্তের ব্যস্ততা। সাধারণত একজন থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জকে দেখা যায় প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে কিংবা অপরাধ মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিতে। কিন্তু রবিবার সকালে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায় দেখা গেল নাদনঘাট থানার আইসি বিশ্ববন্ধু চট্টরাজকে। পুলিশের পোশাকের পরিচয় ছাপিয়ে তিনি যেন হয়ে উঠেছিলেন একজন সাধারণ সাফাই কর্মী। রবিবার ছুটির দিনে যখন স্কুল বন্ধ, তখনই স্কুল চত্বরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেন তিনি।

    থানার কয়েকজন পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে সকালে পৌঁছে যান নাদনঘাট থানার অন্তর্গত পারুলডাঙা নসরৎপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। হাতে ঝাঁটা, কোদাল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম নিয়ে শুরু হয় স্কুল প্রাঙ্গণ পরিষ্কারের কাজ। স্কুলের চারপাশে জমে থাকা আগাছা, আবর্জনা ও নোংরা জঞ্জাল সরিয়ে শিশুদের জন্য একটি সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

    বিশ্ববন্ধু বাবু বলেন, “এটা নতুন কিছু নয়, এই কাজ আমি দীর্ঘদিন ধরেই করছি। শুধু আমি কেন সমাজের প্রতিটা মানুষেরই সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।” স্থানীয়দের কথায়, এটি কোনও একদিনের উদ্যোগ নয়। পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার নানা কর্মসূচিতে আগেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে আইসি বিশ্ববন্ধু চট্টরাজকে। এর আগে শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগেও তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল।এদিন স্কুলে তাঁর এই উদ্যোগ দেখে অনেকেই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।

    এলাকার বাসিন্দাদের মতে, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ কেবল কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেও প্রকাশ করা যায়, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ তুলে ধরেছেন নাদনঘাট থানার আইসি। একজন প্রশাসনিক প্রধান হয়েও তিনি যে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং সমাজের কল্যাণে হাত ময়লা করতে পিছপা হন না, সেই বার্তাই যেন পৌঁছে গেল তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে।পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)