ক্ষুর দিয়ে অধ্যাপিকার হাতের শিরা কেটে খুন, দাস দম্পতির বাড়ি থেকে কী কী প্রমাণ পেল পুলিশ?
News18 বাংলা | ০৮ জুন ২০২৬
দিল্লির অধ্যাপিকাকে খুনের ঘটনায় তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে৷ মিলে যাচ্ছে একাধিক সূত্র এবং প্রমাণ৷ সূত্রের খবর, দাঁড়ি কাটার ক্ষুর দিয়ে দিল্লির অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের হাতের শিরা কেটেছিল অভিযুক্ত বর্ধমানের দম্পতি রামপ্রসাদ ও তার স্ত্রী বনশ্রী৷
জানা গিয়েছে, তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে সেই ক্ষুরও৷ ধৃতদের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েঠে অধ্যাপিকাকে খুনের সময় ব্যবহৃত পোশাক, টুপিও ৷ তল্লাশিতে মিলল দিল্লি যাওয়া আসার টিকিট ও অন্যান্য নথী। ধৃতদের আজ ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে বর্ধমান আদালতে তুলল দিল্লি পুলিশ।
দেবস্মিতাকে খুনের পর পূর্বা এক্সপ্রেসে ছেলেকে নিয়ে ফিরছিল দম্পতি৷ ০৩ জুন বিকেল ৫:৪০ মিনিটে পূর্ব এক্সপ্রেসে চড়ে ০৪.০৬.২০২৬ তারিখে বর্ধমানে পৌঁছায় অভিযুক্তরা। খুনের পর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ট্যাক্সি এবং একটি টিএসআর (TSR) ভাড়া করে। এরপর আনন্দ বিহার হয়ে নিউ দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে যায়৷ সেখান থেকে পূর্বা এক্সপ্রেস ধরে বর্ধমানের অভিযুক্ত দম্পতি।
জানা যায়, অভিযুক্ত দম্পতি নিজেদের পঞ্চম শ্রেণীর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে গিয়েছিলেন৷ স্টেশন থেকেই নিহত অধ্যাপিকাকে ফোন করেন তাঁরা৷ প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে হত্যার শিউরে ওঠা বিবরণ৷
স্টেশন থেকে অধ্যাপিকাকে ফোন করে দম্পতি জানান, ‘বাড়ি ভাড়া হাতে হাতে দেব’৷ তাদের আবাসনে আসতে বলেন দেবস্মিতা৷ রামপ্রসাদের পকেটে দাড়ি কামানোর ক্ষুর ছিল৷ তাদের আপ্যায়নে রীতিমতো ব্যস্ত হয়ে পড়েন দেবস্মিতা৷
সূত্রের খবর, দেবস্মিতার অলক্ষ্যে তাঁরই ঘরে থাকা ইলেকট্রিক ইস্ত্রি দিয়ে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করা হয়৷ মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে সংজ্ঞা হারান দেবস্মিতা৷ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ক্ষুর দিয়ে হাত সহ দেহের বিভিন্ন অংশ কাটা হয়৷ এরপর পোশাক বদল করে বেরিয়ে পড়ে তারা৷ ট্রেন ধরে ফিরে আসেন বর্ধমানের বাড়িতে৷
গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির একটি অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটে খুন হন দেবস্মিতা পাল নামে বছর ৪২-এর ওই বাঙালি অধ্যাপিকা৷ খুনের অভিযোগে আজই বর্ধমান শহরের কার্জন গেট এলাকা থেকে রামপ্রসাদ দাস এবং বনশ্রী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ এবং বর্ধমান থানার পুলিশের একটি যৌথ দল৷ জানা গিয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্রে বর্ধমানের কার্জনগেট সংলগ্ন বাদামতলা এলাকায় একটি বাড়ি পেয়েছিলেন দেবস্মিতা৷ সেই বাড়িতেই ভাড়া থাকত অভিযুক্ত দাস দম্পতি৷ পুলিশের অনুমান ভাড়া বাড়ির দখল নিতেই ওই অধ্যাপিকাকে খুনের ছক কষে বর্ধমানের দম্পতি৷