কোনটা আসল, কোনটা নকল? এই জটিল ধাঁধার গোলকধাঁধায় হারিয়ে গিয়ে দলটাকেই নাকি হারিয়ে বসেছেন সাঁইথিয়া পুরসভার পুরপ্রধান। শেষে ধাঁধার উত্তর না পেয়েই ইস্তফার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। মহকুমা শাসককে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন সাঁইথিয়ার পুরপ্রধান বিপ্লব দত্ত ওরফে হাপা। শুধু তিনিই নন, ইস্তফা দিয়েছেন পুরসভার ১৪ জন কাউন্সিলারও।
রাজ্যে একের পর এক পুরসভায় ভাঙন। সোমবার সেই আঁচ এসে পড়ল বীরভূমের সাঁইথিয়া পুরসভাতেও। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চার বছর আগে জেতা পুরসভাও হাতছাড়া তৃণমূলের। রাজ্যে ও দিল্লিতে দলের ভাঙন সামলাতে হিমশিম খাওয়া জোড়াফুলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও খানিকটা ধাক্কা দিল সাঁইথিয়া। সোমবার সিউড়ির মহকুমা শাসকের দপ্তরে এসে চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলার পদে ইস্তফা পত্র জমা দিয়ে পুরপ্রধান বিপ্লব দত্ত জানালেন, দলটাই নাকি তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরে বিপ্লবের মন্তব্য, ‘এখন যা দলের অবস্থা! তাতে দলটাকেই খুঁজে পাচ্ছি না। কোনটা প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস, সেটাই এখন বুঝতে পারছি না। একটি দলের এত ভাগাভাগি!’
সদ্য প্রাক্তন সাঁইথিয়ার চেয়ারম্যানের কথায়, ‘এ বারের নির্বাচনের ফলে স্পষ্ট সাধারণ মানুষও তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিধানসভা ভোটের ফলাফলে তা একেবারে স্পষ্ট। সেই কারণেই আমি চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলার পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ বিপ্লব আরও জানান, তিনি কাউন্সিলারদের জানিয়ে ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাঁর দাবি মতোই এর পরেই ১৪ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেন।
তবে তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে মুখ খুলতে চাননি বিপ্লব দত্ত। তিনি বলেন, ‘যাই হোক, ওটা বড়দের ব্যাপার। আমরা ছোট মানুষ। ওত জানি না।’ শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, সাঁইথিয়া পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১৪ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছেন। ২০২২ সালে সাঁইথিয়া পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডের ১৩টিতেই বিরোধীদের প্রার্থী ছিল না। তিনটিতে বামেরা প্রার্থী দিয়েছিল। ফলে প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাঁইথিয়া পুরসভা জিতে নেয় জোড়াফুল শিবির।