মমতা-অভিষেকের উপস্থিতিতেই দিল্লিতে ঘাসফুল শিবিরে বিদ্রোহের আগুন। সোমবার, তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার ২০ জন সাংসদ পা বাড়িয়েছেন শাসক শিবির, NDA-র দিকে। এই নিয়ে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। এরই মধ্যে পাল্টা রণংদেহী মেজাজে আসরে নামলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দলত্যাগী ও বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোড়া পোস্ট করেছেন তিনি।
এ দিনই লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে সভার অন্দরে তৃণমূলের থেকে আলাদা হয়ে ভিন্ন ব্লক হিসেবে বসার এবং NDA-কে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের অন্তত ২০ জন সাংসদ। এই প্রেক্ষিতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মহুয়া মৈত্র। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ যে জনাদেশ দিয়েছিলেন, তা NDA-র পক্ষে ছিল না।
তীব্র আক্রমণ শাণিয়ে মহুয়া লেখেন—
‘২০২৪ সালে যে সাংসদরা তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন, তাঁদের পাওয়া জনাদেশ কোনও ভাবেই NDA-র পক্ষে ছিল না। প্যান্টে হলদে দাগ লাগা সমস্ত লোভী, স্বার্থান্বেষী, বেইমানরা দয়া করে এ বার BJP-তে যোগ দিতে পারেন— তবে তার আগে নিজ নিজ আসন থেকে ইস্তফা দিন এবং BJP-র টিকিটে ফের নির্বাচনে লড়ুন। দেখি আপনারা কত বড় নায়ক!’
তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ শর্মিলা সরকার জানিয়েছেন, BJP নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের উদ্যোগেই তাঁরা এই পদক্ষেপ করেছেন। এ দিন ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতেই এই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ঘাটালের অভিনেতা-সাংসদ, দেব-ও ছিলেন বলে সূত্রের খবর। বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে বলে জল্পনা রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠানকেও তীব্র আক্রমণ করেছেন মহুয়া। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারকে ট্যাগ করে মহুয়া মৈত্র লিখেছেন—
‘ইউসুফ পাঠান, অমিত শাহ ডেকেছেন বলেই আপনি দিল্লি ছুটে যাচ্ছেন? একটু সাহস দেখান। আপনি ভারতের হয়ে খেলেছেন। আমাদের জেলা আপনাকে বিপুল ব্যবধানে জিতিয়েছে। একটু লজ্জা পান এবং নিজের মেরুদণ্ড সোজা রাখুন।’
তবে মহুয়া মৈত্রর মতো কট্টর মোদী-বিরোধী তৃণমূল সাংসদরা এই বিদ্রোহী শিবিরকে যতই ‘বেইমান’ বলুন, ‘স্বার্থান্বেষী’ বলুন, তাতে দলের ফাটল বা ভাঙন যে আটকাবে না তা পরিষ্কার। মহুয়া তাঁদের BJP-র টিকিটে লড়ার চ্যালেঞ্জ করেছেন। তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের দাবি, ‘বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে’-ই NDA-কে সমর্থন করছেন তাঁরা। নজর এখন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার দিকে। কাকলিদের ব্লককে যদি তিনি স্বীকৃতি দেন, তা হলে লোকসভার অন্দরে মোদী সরকারের জমি আরও মজবুত হবে।