600 কোটি টাকার বিপুল বিনিয়োগ, সাঁকরাইলে আমূলের মেগা ডেয়ারি প্ল্যান্টের ভূমিপুজোয় মুখ্যমন্ত্রী
eTV Bharat | ০৮ জুন ২০২৬
সাঁকরাইল (হাওড়া), 8 জুন: রাজ্যে শিল্পের খরা কাটাতে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। শিল্পায়নের লক্ষ্যে রাজ্যে আরও একগুচ্ছ বিপুল বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী 13 জুন হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে এক মেগা ডেয়ারি প্রসেসিং প্ল্যান্টের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হতে চলেছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এবং আমূলের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই বিশাল প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভূমিপুজো সম্পন্ন হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই মেগা ডেয়ারি প্ল্যান্টটি তৈরি করতে প্রায় 600 কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদক সংস্থা আমূল। রাজ্যে এটিই হতে চলেছে আমূলের নিজস্ব মালিকানাধীন প্রথম মেগা প্রসেসিং প্ল্যান্ট। এই উদ্যোগ বাংলার শিল্পক্ষেত্রে এক বড়সড় চমক হতে চলেছে।
এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল এর বিপুল উৎপাদন ক্ষমতা। প্রশাসনিক মহলের খবর, আমূলের এই প্রস্তাবিত কারখানায় বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। নবান্নের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাঁকরাইলের এই স্বয়ংসম্পূর্ণ অত্যাধুনিক প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন প্রায় 10 লক্ষ কিলোগ্রাম দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদিত হবে। যার মধ্যে থাকবে সাধারণ দই, বাঙালির অতি প্রিয় মিষ্টি দই, ইয়োগার্ট, লস্যি এবং ঘোল বা বাটার মিল্ক। প্রতিদিন এই বিপুল পরিমাণ পণ্য উৎপাদনের ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের বাজারে দুগ্ধজাত সামগ্রীর বিপুল চাহিদা আরও সহজে ও সাশ্রয়ী মূল্যে মেটানো সম্ভব হবে, তেমনই অন্যদিকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে কেন্দ্র করে রাজ্যে প্রচুর মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।
সম্প্রতি এই মেগা প্রকল্প এবং রাজ্যে ডেয়ারি শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কায়রা ডিস্ট্রিক্ট কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়নের (আমূল ডেয়ারি) প্রধান অমিত ব্যাস এবং গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের (জিসিএমএমএফ) ম্যানেজিং ডিরেক্টর জায়েন মেহতা। রাজ্যের বুকে আমূলের এই নয়া পদার্পণ, আগামী দিনে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং ডেয়ারি শিল্পের প্রসারে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কর্পোরেট আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ ও সদর্থক আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু হাওড়ার সাঁকরাইলেই নয়, শিল্পের এই নয়া হাওয়া রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে দিতে তৎপর প্রশাসন। এই বিষয়ে রাজ্যের কৃষিজ বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে বাংলায় দুটি বড় মাপের শিল্প প্রকল্প আসতে চলেছে। যার মধ্যে একটি হলো আমূলের 600 কোটি টাকার এই ডেয়ারি প্ল্যান্ট, আর অন্যটি কৃষিজ বিপণন দফতরের উদ্যোগে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় নদীর তীরবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ প্রকল্প। দিলীপ ঘোষের কথায়, বর্তমানে বহু বিশিষ্ট শিল্পপতি আমাদের রাজ্যে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তাঁরা তাঁদের প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জমির খোঁজ করছেন। শিল্পপতিদের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার জন্য সরকারের তরফ থেকে সবরকমভাবে জোরদার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
শিল্পায়নের এই ইতিবাচক আবহকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্প্রতি আরও একটি বড় পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা বিমানবন্দরে দেশের অন্যতম বৃহৎ নির্মাণ ও প্রযুক্তি সংস্থা লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)-র চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর এসএন সুব্রহ্মণ্যনের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় আধ ঘণ্টার এই বৈঠকে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে সার্বিক পুনর্জাগরণ ঘটানোর বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই আলোচনার নির্যাস তুলে ধরে লেখেন, রাজ্যে শিল্পায়নের জন্য একটি মজবুত পরিকাঠামো গড়ে তোলা, মেগা বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারকে ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্যই হলো রাজ্যের যুবসমাজের জন্য আগামী দিনে অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। সব মিলিয়ে, রাজ্য সরকারের এই ধারাবাহিক শিল্পমুখী পদক্ষেপ আগামী দিনে বাংলার অর্থনীতিতে বড়সড় বদল আনতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।