• চেয়ারম্যান-সহ 11 জন কাউন্সিলরের পদত্যাগ মেমারি পুরসভায়
    eTV Bharat | ০৮ জুন ২০২৬
  • মেমারি (পূর্ব বর্ধমান), 8 জুন: চেয়ারম্যান-সহ 11 জন কাউন্সিলরের পদত্যাগ৷ প্রশাসনিক সংকটের আশঙ্কা পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি পুরসভায়। সোমবার এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেখানে। এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

    পুরসভার মোট 16 জন নির্বাচিত কাউন্সিলরের মধ্যে 11 জনের এই পদত্যাগের ফলে বোর্ড কার্যত অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। সোমবার একে একে কাউন্সিলররা পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পদত্যাগপত্রগুলি পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য মহকুমা শাসকের কাছে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য প্রশাসন নেবে।

    তৃণমূল পরিচালিত মেমারি পুরসভায় সদস্য সংখ্যা 16। পুরসভার চেয়ারম্যান তথা 12 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান স্বপন বিষয়ী-সহ 11 জন কাউন্সিলর সোমবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সেই কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন - মনসুরা বেগম শেখ (ওয়ার্ড-3), চিরঞ্জীব ঘোষ (ওয়ার্ড-6), শেখ ইউসুফ (ওয়ার্ড-2), রঞ্জিত বাগ (ওয়ার্ড-14), বাপি বন্দ্যোপাধ্যায় (ওয়ার্ড-9), কাউন্সিলর কাশ্মীরা খাতুন শেখ (ওয়ার্ড-15), বিলকিস খাতুন (ওয়ার্ড-11) ও চুমকি বাগ (ওয়ার্ড-4)৷ এর আগে গত শুক্রবার 5 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৃষ্ণপদ বিশ্বাস পদত্যাগ করেছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পর দলীয় সংগঠনের ভিতরে চাপা ক্ষোভ ও প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত গণপদত্যাগে রূপ নেয়। পদত্যাগীদের মধ্যে একাধিক কাউন্সিলর জানিয়েছেন, তারা ব্যক্তিগত কারণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অসুবিধার কথা উল্লেখ করেছেন। একজন কাউন্সিলর মন্তব্য করেন, জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় পরিষেবা দিতে গিয়ে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন৷ ফলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

    এই ঘটনার পর পুরসভা এলাকায় প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড ভেঙে গেলে রাজ্য সরকার প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে, অথবা নতুন নির্বাচন আয়োজনের পথও খোলা থাকে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

    অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক মহল এই ঘটনাকে শাসকদলের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও পরিষেবা ব্যর্থতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহের মতে, যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল, তাতে এই বোর্ড থাকা আর না থাকা সমান হয়ে গিয়েছিল। রাস্তা থেকে জল কিংবা স্থানীয় কোনও পরিষেবা সাধারণ মানুষ পাচ্ছিল না। তাই এটা তো ঘটতোই।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেমারি শহরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় মহল। ফলে মেমারি পুরসভার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে৷ রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েই নজর রয়েছে সকলের।
  • Link to this news (eTV Bharat)