• এটা ব্যর্থতা নয়, দলের লজ্জা ! 20 সাংসদের বিদ্রোহের খবরে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ
    eTV Bharat | ০৮ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 8 জুন: লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের 20 জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক চর্চার মধ্যেই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতি কোনও রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, বরং 'দলের লজ্জা'।

    সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বলেন, "আমার কঠিন সময়ে দল আমাকে বিপদে ফেলে পাশে দাঁড়ায় নি। কিন্তু দলের অসময়ে কেউ থাকুক বা না থাকুক একজন কর্মী হিসেবে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছি। তবে দলের একই ভুল বারবার রিপিটিশন কাম্য নয়। এটা ঠিক নয়। ভুলের রিপিটিশন হলে এই পরিণতি হবেই। আমি বারবার দলকে সাবধান করার চেষ্টা করেছি, পরিণামে আমাকেই বারবার সাসপেন্ড করা হয়েছে।"

    লোকসভায় ভাঙনের খবরে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, "এটা ব্যর্থতা নয়, এটা দলের লজ্জা । যাঁরা প্রতীকে জিতেছেন, তাঁরা আজ দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইটাকে কীভাবে খাটো করছেন ? দিদি দিল্লিতে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে দেখা না করে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করছেন। ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতাও নেই। এটা দলের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক পরিস্থিতি।"

    কুণালের দাবি, বিজেপি তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা করলেও দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য শুধুমাত্র বিরোধী শিবিরকে দায়ী করা যাবে না। তাঁর কথায়, "বিজেপি দল ভাঙার চেষ্টা করছে, এটা সত্যি। কিন্তু যারা সেই ফাঁদে পা দিচ্ছেন, তাঁরা কি শিশু ? আসলে অনেকেই নিজেদের স্বার্থে দল ছাড়ছেন। দলের ভেতরের কিছু স্বার্থপর নেতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী ।"

    প্রসঙ্গত, এদিন বিধানসভায় দলের বিদ্রোহী বিধায়কদের নেতা তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে প্রবেশ করতে দেখা যায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে৷ এ ব্যাপারে অবশ্য কুণাল এখনই সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি ৷ তবে সামগ্রিকভাবে দলের সাংগঠনিক পরিচালনা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কুণালের বক্তব্য, "কারা দল সামলাচ্ছিলেন ? কেন বারবার ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? কেন সতর্কবার্তা শোনা হল না? আজ সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হবে।"

    দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আক্রমণ এবং তা নিয়ে দলের একাংশের নীরবতারও সমালোচনা করেন কুণাল। তিনি বলেন, "সংকটের সময় দলের অনেক বড় নেতা চুপ করে থেকেছেন। এই নীরবতা দলের পক্ষে ক্ষতিকর হয়েছে।"

    রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ও বিধানসভায় দলের সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে যখন তৃণমূল অস্বস্তিতে, তখন কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য দলের অন্দরের ক্ষোভ ও অসন্তোষকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল।
  • Link to this news (eTV Bharat)