পানিটাঙ্কি গ্রাম। ভারত-নেপাল সীমান্তে অবস্থিত একটি ছোট জনপদ। গ্রামটি নেপালের কাঁকড়ভিটা সীমান্ত চৌকির কাছে অবস্থিত। সেখানেই একটি জায়গা থেকে স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’কে তুলে আনে বেঙ্গল এসটিএফ। নেপাল যাওয়ার এই রাস্তাকেই ‘সেফ প্যাসেজ’ বলে মনে করে অপরাধীরা। মানব পাচার থেকে শুরু করে আত্মগোপন করার পন্থা— সব কিছুরই অবাধ বিচরণ এই পথেই।
অভিযোগ, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান, জাল নোট সরবরাহ এবং জঙ্গিমূলক কার্যকলাপের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধগুলো নিয়মিত ঘটানোর চেষ্টা হয়ে থাকে ওই এলাকায়। এই পথ ব্যবহার করে অপরাধীরা দুই দেশের পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য, সীমান্ত পার হওয়ার আগেই পানিট্যাঙ্কি এলাকা থেকে আটক করা হয় জাহাঙ্গিরকে। উল্লেখ্য, সীমান্তে মেচি নদীর সেতুর এ পারে ভারত, অন্য প্রান্তে নেপাল। এই নদী এবং সেতুকেই সীমান্ত বলে গণ্য করা হয়। বিশেষ চুক্তি অনুযায়ী ভারত ও নেপালের বাসিন্দারা অবাধে এই দুই দেশে যাতায়াত করতে পারেন। তবে রাত কাটাতে হলে দুই দেশের প্রশাসনের কাছে আগে থেকে জানাতে হয়। ভারতীয়দের নেপালে যেতে হলে বিশেষ কোনও নথির প্রয়োজন নেই। ভারতীয় হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ভোটার কার্ড অথবা আধার কার্ড দেখালেই হয়। মেচি সেতু সংলগ্ন ভারতের অংশে রয়েছে সশস্ত্র সীমা বল (SSB) ক্যাম্প। সেখানে নথি দেখানো হলে নিরাপত্তা জনিত কারণে সঙ্গে থাকা সামগ্রী তল্লাশি করে দেখা হয়। এছাড়া কোনও নিষিদ্ধ সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না দুই দেশের সেনাবাহিনী পর্যবেক্ষণ করেই যাতায়াতের ছাড়পত্র দেয়। সীমান্তের এ পারের মতোই নেপালের দিকেও রয়েছে যাতায়াতকারীদের জন্য একই রকম নিরাপত্তা ও তল্লাশির ব্যবস্থা।
পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যৌথ উদ্যোগেই অপরাধীদের আটকাতে সজাগ রয়েছে প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে প্রাক্তন NSG কম্যান্ডো ও BJP বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘সীমান্ত রক্ষা ব্যাপরটা যতটা বিশাল, ততটা জটিল। তবে নতুন সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও বিএসএফের মধ্যে সমন্বয়ের দ্রুত উন্নতি করা হচ্ছে। সেই কারণেই এই অপরাধীরা ধরা পড়ছে। দাগি অপরাধীরা নেপাল হয়ে পালিয়ে যাওয়ার একটা চেষ্টা করে। কারণ, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত আগের থেকে অনেক বেশি মজবুত এবং পালানোর সুযোগ কম। সেই কারণে নেপাল সীমান্ত ব্যবহার করা হচ্ছে।’
পাশাপাশি বিধায়কের আরও দাবি, নেপালে মাফিয়া, আইএসআইয়ের একটা স্বর্গরাজ্য। যারা পালানোর চেষ্টা করছে, তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রের যোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই জাহাঙ্গিরের গুরুর আন্তর্জাতিক কানেকশন রয়েছে। আন্তর্জাতিক কানেকশনকে ব্যবহার করেই এরা পালানোর চেষ্টা করছে। সেই কারণে এদেরকে আটকাতে এসএসবিকে এলার্ট করা হয় এবং পুলিশের সঙ্গে ভালো সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় মানব পাচারের রুট হলো ভারত-নেপাল সীমান্ত। প্রতি বছর আনুমানিক কয়েক হাজার নারী ও শিশু এই উন্মুক্ত সীমানা পেরিয়ে পাচারের শিকার হয়। এ ছাড়া নেপালকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে ভারত ও চিনে বেআইনি অস্ত্র, সোনা এবং মাদকদ্রব্য পাচার করা হয় বলেও খবর।