• ছোট্ট দু’টি ভুল, আটঘাট বেঁধেও দিল্লি পুলিশের জালে বর্ধমানের দম্পতি, দেবস্মিতার হত্যারহস্য ফাঁস কী ভাবে?
    এই সময় | ০৯ জুন ২০২৬
  • মোবাইল ফোন সঙ্গে ছিল না। টাওয়ার লোকেশন ধরার উপায় নেই। হত্যার আগে ফ্ল্যাটে ঢোকার সময়ে মুখে ছিল মাস্ক। সিসিটিভিতে মুখে স্পষ্ট ছবি ধরা পড়েনি। খুনের আগে যে হোটেলে উঠেছিল দম্পতি, সেখানে ব্যবহার করা হয় ভুয়ো ভোটার ও আধার কার্ড। খুনের দিনেই ক্রাইম স্পট ছেড়ে ট্রেনে করে প্রায় ১,৪০০ কিমি পেড়িয়ে চলে আসে বর্ধমানে। পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার একাধিক উপায় অবলম্বন করেছিল বর্ধমানের ওই দম্পতি। এর পরেও কয়েকটি ছোট ভুল-এর সূত্র ধরেই দিল্লির শিবাজি কলেজের অধ্যাপিকা হত্যার তদন্তে কিনারা করল পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় অভিযুক্ত রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস গত ৩ জুন দিল্লি পৌঁছয়। দিল্লির ডাল্লুপুরা এলাকার একটি গেস্ট হাউসে ওঠে তারা। সেখানে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে ভুয়ো ভোটার ও আধার কার্ড ব্যবহার করে। এমনকী সেখানে উল্লেখিত ফোন নম্বরও ভুয়ো বলে জানতে পারে পুলিশ। তবে এত কিছুর মাঝেও দু’টি ভুল করে ফেলে অভিযুক্ত দম্পতি। প্রথমত, ওই গেস্ট হাউসের সিসিটিভিতে তাদের স্পষ্ট ছবি ধরা পড়ে। দ্বিতীয়ত, অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের ফ্ল্যাট থেকে পোশাক পরিবর্তন করে বের হলেও রাস্তায় কয়েকটি সিসিটিভিতে ধরা পরে তাদের গতিবিধি।

    গেস্ট হাউস থেকে প্রাপ্ত ছবি দেবস্মিতার পরিবারের লোকজনকে দেখানো হয়। সেখান থেকেই পুলিশ জানতে পারে, এই দু’জন দেবস্মিতার দাদুর বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সেই সূত্রেই বর্ধমানে আসে দিল্লি পুলিশ। অভিযুক্তরা দেবস্মিতাকে খুন করার পরে ট্যাক্সিতে চেপে দিল্লির আনন্দ বিহার থেকে নিউ দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছয়। সেখান থেকে পূর্বা এক্সপ্রেসের করে ৪ ঠা জুন বর্ধমান এসে পৌঁছয়। বর্ধমানের বাড়িতেই লুকিয়ে ছিল তারা। উল্লেখ্য, দিল্লি গিয়ে এই অপরাধ সংগঠিত করার সময়ে ওই দম্পতির নাবালক সন্তানও সঙ্গে ছিল।

    সোমবার নাবালক-সহ তিন জনকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে পুলিশ। তবে নাবালকের বয়স বারো বছরের নীচে হওয়ায় তাকে সরকারি হোমে রাখার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। ট্রানজ়িট রিমান্ডের আবেদন করে ধৃতদের সোমবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে দিল্লির নিউ অশোকনগর থানা পুলিশ।

    পুলিশ প্রাথমিক ভাবে মনে করছে, বর্ধমানের বাড়িটি দেবস্মিতার পারিবারিক সূত্রে পাওয়া। সেখানেই এই দম্পতি ২০২৩ সাল থেকে ভাড়া থাকত। দু’জনকে দীর্ঘদিন ধরেই ভাড়া বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছিলেন দেবস্মিতা। বার বার উঠে যেতে বলতেই আক্রোশবশত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজি কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুন করার পরিকল্পনা করে ধৃত ভাড়াটিয়া রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস।

  • Link to this news (এই সময়)