আজকাল ওয়েবডেস্ক: বীরভূমের রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত। একসময় জেলার রাজনৈতিক সমীকরণের শেষ কথা ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি নিরাপত্তা ও দেহরক্ষীর কড়া বলয়ে ছিলেন তিনি এবং তাঁর পরিবার। কিন্তু এখন সেই চেনা ছবিতে এসেছে বড় পরিবর্তন।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের সমস্ত সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বর্তমানে বোলপুরের নীচুপট্টিতে তাঁর বাসভবনে আর কোনও সরকারি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন নেই। পরিবর্তে, নিজের নিরাপত্তার জন্য বেসরকারি সংস্থার উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে তাঁকে।
জানা গিয়েছে, কুইক সিকিউরিটি সার্ভিস নামের একটি বেসরকারি সংস্থার দুই সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী গত ৩০ মে থেকে ২৪ ঘণ্টার শিফটে তাঁর বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এই ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলায় শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক চর্চা এবং জোরদার গুঞ্জন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূলের বি টিমে যোগদানের পর বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা, হাসনের বিধায়ক কাজল শেখ-সহ জেলার একাধিক বিধায়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
কিন্তু একসময় বীরভূমের রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী মুখ অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। সরকারি নিরাপত্তার ছত্রছায়া আর নেই তাঁর সঙ্গে। ফলে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরই ভরসা করতে হয়েছে তৃণমূলের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতাকে।
একদা বীরভূমের বেতাজ বাদশা হিসেবে পরিচিত এই নেতার সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।