আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। এরপরই বড় পদক্ষেপ সরকারের। আজ সোমবার ভেঙে দেওয়া হল কলকাতা পুরসভার বোর্ড। কলকাতা পুরসভার মেয়র, চেয়ারম্যান এবং মেয়র-ইন-কাউন্সিল সহ সমস্ত নির্বাচিত কাউন্সিলরের ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এবার থেকে কলকাতা পুরসভার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন রাজ্য সরকারের নিযুক্ত প্রশাসক। কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপ্যাল কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে পুরসভার প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ ইস্তফা দেওয়ার পর রাজ্যের তরফে তৃণমূলকে তিনদিন সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মমতা ব্যানার্জির বাড়িতে ডাকা কাউন্সিলর বৈঠক বাতিল হয়। তিনদিনের মধ্যে পরবর্তী মেয়র নিয়েও সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি তৃণমূল। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণেই কলকাতা পুরসভার যাবতীয় দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল স্মিতা পাণ্ডের হাতে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই ছন্নছাড়া দশা তৃণমূলে। এর মাঝেই শুক্রবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ। মেয়র পদে তিনি ইস্তফা দেওয়ার পরই রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে নোটিস জারি করা হয়েছিল। নতুন মেয়র কে হবেন, আজ সোমবারের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তা জানাতে পারেনি তৃণমূল।
প্রসঙ্গত, আগামী পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় আগামী ১৯ জুন পুর অধিবেশন ডেকেছিলেন। কিন্তু তার আগেই পুরবোর্ড ভেঙে দিল রাজ্য সরকার। যার জেরে সেই অধিবেশনও বাতিল হয়ে গেল।
সোমবার সন্দীপন সাহার সঙ্গে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘরে গেলেন ফিরহাদ হাকিম। আর তারপর থেকেই জল্পনা, মমতার সঙ্গে যে কয়েকজন ছিলেন, এবার কি ছোট হচ্ছে সেই তালিকাও। একে একে, আস্থাভাজনরা সরছেন সকলেই?
ইস্তফা দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছিলেন, তাঁর সময়কালে, কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে সামলেছেন পরিস্থিতি। আট বছর তিনি মেয়র পদে ছিলেন। তিনি নিজের করা কাজের খতিয়ান দিয়ে, একইসঙ্গে জানান, কোন কোন কাজ করে যেতে পারলেন না। এদিন তিনি জানান, দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন তাঁর দীর্ঘ মেয়র পদে থাকার সময়কালে। তবে চেয়ার ধরে তিনি বসে থাকতে চান না, স্পষ্ট করেন তাও। বলেন, 'চেয়ার ধরে বসে থাকলাম অথচ ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। তাই আমি ইস্তফা দিচ্ছি।'