• ব্রেন টিউমার নিয়ে আর দুশ্চিন্তা নয়: ডঃ অমিতাভ চন্দ
    আজকাল | ০৯ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘মাথাব্যথা মানেই কেবল মানসিক চাপ বা ক্লান্তি নয়, এর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় কোনো বিপদ!’ বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবসে শহরবাসীকে ঠিক এই ভাষাতেই সতর্ক করলেন কলকাতার সিএমআরআই (সি কে বিড়লা হসপিটালস)-এর নিউরোসার্জারি বিভাগের ডিরেক্টর চিকিৎসক অমিতাভ চন্দ।

    ব্রেন টিউমার নিয়ে আমজনতার সচেতনতা বাড়াতে সম্প্রতি এই হাসপাতালের তরফে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানেই উঠে এল আশার আলো।

    চিকিৎসকদের মতে, ব্রেন টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো এতটাই সাধারণ যে, অনেকেই সেগুলোকে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে ভুল করেন। ফলে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিছু লক্ষণ দেখা দিলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন- 

    দীর্ঘদিন ধরে টানা মাথাব্যথা এবং ঘন ঘন বমি হওয়া।

     দৃষ্টিশক্তিতে আচমকা সমস্যা বা চোখে ঘোলা দেখা।

     আগে কখনও হয়নি এমন খিঁচুনি।

     স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, সিদ্ধান্তহীনতা বা ব্যবহারে আকস্মিক বদল।

     হাঁটাচলার সময় শরীরের ভারসাম্য হারানো বা একপাশ দুর্বল হয়ে পড়া।

    চিকিৎসক চন্দের কথায়, “অনেক রোগীই প্রথম দিকে এই উপসর্গগুলোকে হালকাভাবে নেন। কিন্তু রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে সমস্যা অনেক জটিল হয়ে পড়ে।”

    চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা, ব্রেন টিউমার মানেই অবধারিত মৃত্যু- এই ধারণা এখন সম্পূর্ণ ভুল। সব টিউমার ক্যানসার নয়, বহু টিউমারই ‘বেনাইন’ বা অক্ষতিকর হয়। এমনকী টিউমারটি ম্যালিগন্যান্ট (ক্যানসারযুক্ত) হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। 

    চিকিৎসার সাফল্য মূলত নির্ভর করে টিউমারের ধরন, অবস্থান এবং কত দ্রুত সেটি ধরা পড়েছে তার ওপর।

    গত এক দশকে নিউরোসার্জারির দুনিয়ায় কার্যত বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। সিএমআরআই হাসপাতালে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে নিউরোনেভিগেশন সিস্টেম, ইনট্রাঅপারেটিভ মনিটরিং এবং ফ্লুরোসেন্স-গাইডেড সার্জারির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। 

    শুধু তাই নয়, নিখুঁত অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসকেরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ‘অ্যাওয়েক ব্রেন সার্জারি’ বা রোগীকে সজ্ঞানে রেখে অস্ত্রোপচারের সাহায্য নিচ্ছেন।

    চিকিৎসক অমিতাভ চন্দ জানান, “আজকের দিনে ব্রেন টিউমার নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সঠিক সময়ে চিকিৎসা হলে প্রায় ৯৯ শতাংশ রোগীই সুস্থ হয়ে ওঠেন। এখন মৃত্যুর হার নেই বললেই চলে। আমি নিজেই প্রায় ১২০-১২২টি এমন সফল অস্ত্রোপচার করেছি, যেখানে রোগীরা আজ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন।”

    হাসপাতালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর পরিবারও চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁদের নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা শোনান। পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল হিসেবে সিএমআরআই এই ধরনের জটিল স্নায়ুরোগের চিকিৎসায় প্রতিনিয়ত নতুন নজির গড়ছে।

    বিশেষজ্ঞদের একটাই পরামর্শ- স্নায়ু বা মাথার কোনও সমস্যাকেই ফেলে রাখবেন না। সময়ের একটি সঠিক সিদ্ধান্তই বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি মূল্যবান জীবন।
  • Link to this news (আজকাল)