আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোনা পাপ্পু মামলায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইডি (ED) দপ্তর থেকে বেরোলেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডে। বৃহস্পতিবার প্রায় নয় ঘণ্টা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের মুখোমুখি হওয়ার পর যখন তিনি বাইরে আসেন, তখন তাঁর চোখে-মুখে ক্লান্তির চেয়েও বেশি ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ।
ইডি দপ্তর থেকে বেরোনোর সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শ্রেয়া দাবি করেন, সিজিও কমপ্লেক্সে এদিন আরও অনেক মানুষের ভিড় থাকায় প্রথমার্ধে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ শুরুই করা যায়নি। মূলত সেকেন্ড হাফ বা দুপুরের পর ইডি আধিকারিকরা তাঁকে পাঁচ থেকে ছয়টি প্রশ্ন করেন এবং তিনি সবকটিরই যথাযথ উত্তর দিয়েছেন। শ্রেয়া এদিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ইডি আজ তাঁকে কোনও সমন পাঠায়নি; বরং তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় তদন্তে সহযোগিতা করতে এসেছেন। এই বিষয়টি তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার আগেই সামাজিক মাধ্যমেও পোস্ট করে জানিয়েছিলেন।
তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জয় কামদার এবং কল্যাণ শুক্লার সঙ্গে তাঁর ব্যাঙ্কিং লেনদেনের যে অভিযোগ উঠছে, সেই প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন শ্রেয়া। তিনি জানান, জয় কামদারকে তিনি অবশ্যই চেনেন। জয়ের বাড়িতে আয়োজিত কালীপুজোয় তিনি আমন্ত্রিত হিসেবে গিয়েছিলেন এবং জয়ের স্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর জানাশোনা রয়েছে। তবে তাঁর সাফ কথা, সেই পুজোয় আরও তিন-চারশো মানুষ এসেছিলেন, তাই এর বাইরে জয়ের সঙ্গে তাঁর আলাদা কোনও ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে, কল্যাণ শুক্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনা ও টাকার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগসূত্র আছে কি না, জানতে চাওয়া হলে শ্রেয়া কিছুটা ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করেন কল্যাণ শুক্লাকে নিয়ে তাঁকে যেন কোনও প্রশ্ন না করা হয়। যদিও পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, তাঁর নিজের বাড়ি থেকে কোনও সোনা বা টাকা উদ্ধার হয়নি।
দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের শেষে সিজিও কমপ্লেক্স ছাড়ার আগে শ্রেয়া পাণ্ডে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁকে আর নতুন করে ডাকেনি। আজ তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় এসেছিলেন এবং একজন দায়িত্বশীল ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তদন্তে সহযোগিতা করা তাঁর কর্তব্য বলেই মনে করেন। সেই কর্তব্য পালন করতেই তিনি আজ ইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন।