সাদা ফুলের এই ঝোপ আসলে সাক্ষাৎ 'যম', ভুল করে কাছে গেলেই স্বাস্থ্যের দফারফা! বিপদের আগে চিনে রাখুন
News18 বাংলা | ০৯ জুন ২০২৬
সবুজ পাতা আর ছোট ছোট সাদা ফুলে ভরা গাছটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। রাস্তার ধারে, মাঠের প্রান্তে কিংবা রেল স্টেশন চত্বরে, একটু নজর করলেই ঝোপের মত গজিয়ে ওঠা এই গাছ চোখে পড়বে। আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ ও সুন্দর মনে হলেও, এই গাছ আসলে এক ভয়ংকর বিপদ। নীরবে মানুষের চরম ক্ষতি করে চলা এই বিষাক্ত আগাছার নাম পার্থেনিয়াম।
বর্ষাকাল এলেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে এর বিস্তৃতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। আর এই পার্থেনিয়ামই এখন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড়সড় আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছ সাধারণত পরিবেশের বন্ধু হলেও পার্থেনিয়াম সম্পূর্ণ বিপরীত। এর উপকারের চেয়ে অপকার অনেক বেশি। এই গাছের ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
এর সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জি, ত্বকের নানা জটিল রোগ, এমনকী শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির মত প্রাণঘাতী সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে এই রেণু নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করলে বিপদ আরও বাড়ে। শুধু মানুষ নয়, গবাদি পশুদের জন্য এই আগাছা সমান ক্ষতিকারক। পাশাপাশি, পার্থেনিয়াম যে মাটিতে জন্মায়, সেখানকার উর্বরতা শক্তিও ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। পরিবেশবিদরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, সুস্থ ও নিরাপদ থাকতে দ্রুত এই আগাছা নির্মূল করা অত্যন্ত জরুরি।
যেহেতু বর্ষাকালে এর বংশবিস্তার বেশি হয়, তাই এই সময়েই প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। এই গাছ দেখলেই তা গোড়া থেকে তুলে ফেলা বা উপযুক্ত আগাছানাশক প্রয়োগ করে নষ্ট করে দেওয়া উচিত। তবে খেয়াল রাখতে হবে, সুন্দর ফুল দেখে ভুল করেও যেন কেউ হাত না দেন বা এর খুব কাছে না যান। ছোট ছেলেমেয়েদেরও এই বিষাক্ত গাছটি সম্পর্কে ভাল করে সচেতন করা দরকার, যাতে তারা কোনওভাবেই এই গাছের সংস্পর্শে না যায়। সুন্দর দেখতে হলেও এই বিষাক্ত উদ্ভিদ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।