• বাংলাদেশের ভিসার মেয়াদ শেষ, বাধ্য হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে! মারধরের অভিযোগ স্বামী, শ্বশুরের বিরুদ্ধে
    News18 বাংলা | ০৯ জুন ২০২৬
  • চিকিৎসার জন্য ভারতে এসে আর বাংলাদেশে ফেরা হয়নি। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় ‘পুশব্যাক’-এর আশঙ্কা এড়াতে বাধ্য হয়েই দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল বাংলাদেশের এক তরুণীকে। কিন্তু সেই বিয়েও তাঁর জীবনে স্থায়ী আশ্রয় এনে দিতে পারল না। বরং দ্বিতীয় স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে নদিয়ার ফুলিয়ায় আত্মীয়ের আশ্রয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দিন কাটছে বাংলাদেশের যশোর জেলার বাসিন্দা ওই গৃহবধুর৷

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে ভারতে আসেন তিনি। শান্তিপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকার সময় সম্বন্ধ করে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়। তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে কিছুদিনের মধ্যেই প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে। এরই মধ্যে তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে ফেরা আরও জটিল হয়ে পড়ে।

    পরিবারের দাবি, দেশে ফিরে গেলে প্রশাসনিক জটিলতা ও পুশব্যাকের আশঙ্কা থাকায় বাধ্য হয়েই কয়েক মাস আগে ফুলিয়ার বাসিন্দা বলরাম শর্মার সঙ্গে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন । কিন্তু পরের বিয়েতেও সংসারও সুখের হয়নি।

    অভিযোগ, গতকাল রাতে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে রিয়ার সঙ্গে বচসা বাধে। এরপর তাঁর বর্তমান স্বামী বলরাম শর্মা ও শ্বশুর মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। শুধু তাই নয়, মারধরের পর তাকে একটি ফাঁকা জায়গায় ফেলে রেখে চলে যান বলেও অভিযোগ। গভীর রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আত্মীয়দের খবর দেন।

    খবর পেয়ে ওই গৃহবধূর জেঠিমা বিনা সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, “ওর দেশে ফেরার কোনও উপায় নেই বলেই পরে আবার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।”

    বর্তমানে ওই গৃহবধূর সামনে একাধিক সংকট। একদিকে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় দেশে ফেরা অনিশ্চিত, অন্যদিকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক কার্যত ভেঙে গিয়েছে। ফলে কোথায় এবং কীভাবে তাঁর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও তাঁর পরিবারের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)