আয়ুষ্মান ভারত কার্ডে স্বাস্থ্যসাথীর চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা? শুভেন্দু যা জানালেন...
আজ তক | ০৯ জুন ২০২৬
গোটা দেশের সঙ্গে এবার বাংলাও জুড়ে গেল কেন্দ্রের 'আয়ুষ্মান ভারত' যোজনার সঙ্গে। সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ন্যাশনাল হেল্থ অথরিটি (এনএইচএ)-র সঙ্গে এই নিয়ে মউ স্বাক্ষর করল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা। সোমবার দিল্লিতে বিজ্ঞান ভবনে এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধে পাবেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। এই প্রকল্পের জন্য ৫২৭ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ট্রান্সফার করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলার মোট ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার পাবে আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা। কারা কারা পাবেন আলাদা আলাদা কার্ড, তা স্থির হয়ে গেছে। শুধু ভাষণ আর পেপারে নয়, টাকাও অনুমোদন হয়ে গেছে এই প্রকল্পে।
সোমবার থেকেই বাংলায় মিলবে আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা। শুভেন্দু বলেন, ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নিখরচায় চিকিৎসা পাবেন এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত সাড়ে ৬ কোটি রাজ্যবাসী। প্রথম দিন থেকেই মিলবে পুরনো রোগের কভারেজ। রাজ্য ও দেশের ৩৬ হাজার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এর আওতায় রয়েছে। পরিযায়ীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নিশানা করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল হেলথ মিশনে গত ২ অর্থবর্ষে বাংলার তৎকালীন সরকার কোনও কাজ করেনি। কেন্দ্রের কোনও পরামর্শ লাগু করেনি। এবার কেন্দ্রের স্বাস্থ্য়বিমার সুবিধা পাবে বাংলা। তাঁর দাবি, ডবল ইঞ্জিন সরকার কী ভাবে কাজ করে, এটি সেটার উদাহরণ।
এদিন শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঠিক কী কারণে বারবার তৃণমূল এর বিরোধিতা করেছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'শুরুতে এই প্রকল্পের নামে মন্দির ছিল। সেই কারণে তৃণমূল বারবার বিরোধিতা করে রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত করেছে।'
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বাংলায় প্রচার করা হয়েছে যে আয়ুষ্মান ভারতে সুবিধা পাওয়া যায় না। এর জবাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘গোটা দেশে ১২.১৭ কোটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষকে ১.৮২ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।’ ২০১৮ সালে শুরু হওয়া কর্মসূচীতে ৪৪ কোটি ব্যক্তিগত কার্ড দেওয়া হয়েছে। ৩৬ হাজার ১৯৩টি হাসপাতাল আছে এই কার্ডের অন্তর্ভুক্ত। ১৬ হাজার ৫৫৭টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে এর আওতায়। পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির কারণে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে এবার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।