স্বরূপের ফ্ল্যাটের বন্ধ ঘরে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল লক, চার ঘণ্টা তল্লাশি পুলিশের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ জুন ২০২৬
মেসি কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসের স্নায়ুর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দুয়ারে কড়া নেড়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। যদিও তাঁর মেলেনি রক্ষাকবচ। এই আবহ আবার ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর ডেরায় হানা দিল পুলিশ। সোমবার বেহালার সাহাপুর কলোনিতে অরূপ-স্বরূপ দুই ভাইয়ের ফ্ল্যাটে হাজির হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। সুরক্ষার স্বার্থে গোটা আবাসন ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই ফ্ল্যাটেই সপরিবারে থাকতেন স্বরূপ বিশ্বাস। পুলিশ সূত্রে খবর, ১২টা থেকে ফ্ল্যাটের ভিতরে চিরুনি তল্লাশি চালান অফিসাররা। সোমবার ধৃত স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে যায় পুলিশ।
এদিকে এখানে গিয়ে পুলিশের চোখ কপালে উঠেছে। কারণ এখানে পুলিশ খুঁজে পেয়েছে ফ্ল্যাটের ভিতরে এক রহস্যময় ঘর। ওই ঘরে রয়েছে ডিজিটাল লক। তবে স্বরূপ বিশ্বাস পুলিশকে ওই ডিজিটাল লকের কোড দিতে পারেনি। তাই ওই ঘর খোলাও যায়নি। তখন ওই ঘর খোলার জন্য চাবি ভাঙার লোকও নিয়ে আসা হয়। এখনও পর্যন্ত খোলা যায়নি কারণ তা ডিজিটাল লক। মহিলা মেকআপ আর্টিস্টের শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় স্বরূপ বিশ্বাসকে। আর অরূপ বিশ্বাস এখন কোথায় আছেন তা জানে না পুলিশ।
অন্যদিকে এই ফ্ল্যাটে মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা অকাট্য কোনও প্রমাণ লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। আর সেই নথির খোঁজেই এই যৌথ বাসস্থানে হানা দিয়েছেন পুলিশ অফিসাররা। ভাই গ্রেপ্তার হয়ে শ্রীঘরে গেলেও দাদা এখনও বাইরেই আছেন। তার মধ্যে অরূপ বিশ্বাস এখনও পর্যন্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেননি। স্বরূপকে নিয়ে সাহাপুর কলোনিতে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেখানে তাঁর বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। ওই তল্লাশিতেই একটি রহস্যময় ঘরের সন্ধান পায় পুলিশ। ঘরটিতে থাকা ডিজিটাল লক খুলতে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ।
তাছাড়া স্বরূপ বিশ্বাস নানা কুকর্ম জড়িয়েছিলেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, আর্থিক প্রতারণা, রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল করে সুরুচি সংঘের মতো খ্যাতনামা ক্লাব চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ক্লাব ঘরের দ্বিতীয় তলায় বিলাসবহুল বিছানা এবং পরিকাঠামোর বন্দোবস্ত করে দুষ্কর্ম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।