মুসলিমপ্রধান লাক্ষাদ্বীপে মদ বিক্রির অনুমতি! কেন বদল ৪৭ বছরের আইনে?
প্রতিদিন | ০৯ জুন ২০২৬
মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানের মাধ্যমে মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে ১৯৭৯ সাল থেকে কেন্দ্রের যে আইন ছিল তা বদলে গেল। অবসান ঘটল পুরনো নিষেধাজ্ঞার। ৫ জুন থেকে চালু হয়েছে নতুন আইনটি। স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, কেন বদল আনা হল প্রায় পাঁচ দশক পুরনো আইনে?
লাক্ষাদ্বীপের ৯৭ শতাংশ নাগরিকই মুসলিম। দেশের আর কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মুসলিমরা এতটা সংখ্যাগুরু নন। তাঁদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আবার তপসিলি উপজাতি। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এখানকার ৬৪ হাজার ৪৭৩ জনের মধ্যে ৬১ হাজার ১২০ জনই ওই ক্যাটাগরিতে পড়েন। ইসলাম ধর্মে মদ্যপান নিষিদ্ধ হওয়ায় সেখানকার বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনসংখ্যার কথা কথা বিবেচনা করেই মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এর ফলে গুজরাট, বিহার এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্যের পাশাপাশি লাক্ষাদ্বীপও এদেশের হাতে গোনা অঞ্চলগুলির মতো ‘ড্রাই’ হয়ে ওঠে। গত কয়েক দশক ধরে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কখনওই পুরোপুরি সর্বব্যাপী ছিল না। পর্যটক ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের মাধ্যমে মদ্যপানের সুযোগ ছিল। বিশেষ করে কাভারাত্তি ও বাঙ্গারাম দ্বীপের রিসোর্টগুলিতে।
কিন্তু কেন এতদিনের আইনে বদল আনল প্রশাসন? মনে করা হচ্ছে, মোদি সরকার অনেকদিন ধরেই লাক্ষাদ্বীপকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে। আর সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তি, মদের সহজলভ্যতা না থাকার কারণে লাক্ষাদ্বীপ পিছিয়ে রয়েছে বহু পর্যটন কেন্দ্রের থেকে। আর সেই কারণেই এবার আইনে এই পরিবর্তন।
বলে রাখা ভালো, ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লাক্ষাদ্বীপ সফরে যান। স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁকে কথা বলতে দেখা যায়। সকলের সঙ্গে উপকূলের অপরূপ সৌন্দর্যও উপভোগ করেন তিনি। ছবিগুলি ভাইরাল হয়ে যায়। আর এরপর থেকেই সেখানে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে যেখানে লাক্ষাদ্বীপের পর্যটক সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৭৫, সেখানে তা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬৮ হাজার ৩২৮-এ। আর মোদির সফরের পর তা আরও বেড়ে গিয়েছে। এবার সেই বাড়তে থাকা পর্যটক সংখ্যার কথা মাথায় রেখেই মদ বিক্রির নিষেধাজ্ঞাও এবার তুলে দিল কেন্দ্র।