বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নিয়ে অশান্তির জল গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের। বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ মমতাপন্থীরা। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী ১১ জুন মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ মে। ওইদিন বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটের বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের।
ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সচিবের সন্দেহ হয়। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় তিনি থানায় এফআইআর করেন। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। ইতিমধ্যে একাধিক বিধায়কের বাড়িতেও হানা দেন আধিকারিকরা। ডাক পেলেও একাধিকবার তলব এড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিধানসভার সচিবের কাছে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁদের আর্জিতে স্বীকৃতি দিয়ে বিরোধী দলনেতা করা হয় ‘আসল তৃণমূলে’র ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ মমতাপন্থীরা। আদালত কী রায় দেয়, সেটাই দেখার।