চলন্ত গাড়িতে আচমকা অগ্নিকাণ্ডের জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল হাওড়ার ধুলাগড় এলাকায়। সোমবার সন্ধ্যায় ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে গাড়ির ভিতরে থাকা যাত্রীরা সময় মতো আগুন লক্ষ্য করায় তৎক্ষণাৎ বাইরে বেরিয়ে আসেন। ফলে এক বড় মাপের দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন আরোহীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চারচাকা গাড়িটি হাওড়া থেকে কোলাঘাটের দিকে যাচ্ছিল। ধুলাগড় সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছনোর পরে আচমকাই গাড়িটির সামনের দিক থেকে গলগল করে ধোঁয়া বের হতে দেখেন চালক। বিপদ বুঝে তিনি দ্রুত গাড়িটি রাস্তার পাশে দাঁড় করান এবং আরোহীরা সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি থেকে নেমে যান। এর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো গাড়িটিতে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীদের চেষ্টায় দ্রুত সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে গাড়িটির সিংহভাগ পুড়ে যায়।
গাড়িতে কী ভাবে আগুন লাগল, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক তদন্তের পরে দমকল ও পুলিশের অনুমান, গাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিটের জেরেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র গরমের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই গাড়ির ইঞ্জিনের ভিতরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে গাড়ির বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দেওয়া বা ওয়্যারিং গলে গিয়ে শর্ট সার্কিট হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ব্যস্ত সময়ে জাতীয় সড়কের উপরে এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে সাময়িক ভাবে ওই অংশে যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলকে কেন্দ্র করে রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়, তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের তৎপরতায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ধীরে ধীরে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।