• বিপুল টাকার তোলাবাজির অভিযোগ, গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত
    এই সময় | ০৯ জুন ২০২৬
  • প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল টাকার তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। সোমবার রাতে নিউটাউনে নিজের ফ্ল্যাট থেকে প্রথমে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের শেষে গভীর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিধাননগর উত্তর থানার তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে বারাসত কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন সব্যসাচী।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বিকেলে রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে থানায় FIR দায়ের করেন মধুসূদন চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি। তিনি সল্টলেকের বাসিন্দা। পেশায় ব্যবসায়ী। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তিনি খুনের হুমকি, মানসিক নির্যাতন এবং তোলাবাজির অভিযোগ করেছেন।

    ২০১৮ সালে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা চেয়ে সব্যসাচী তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন বলে FIR-এ দাবি করেছেন মধুসূদন। তিনি লিখেছেন, ‘সব্যসাচী আমাকে ফোন করে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিতে বলেছিলেন।’ পরে সব্যসাচীর প্রতিনিধি হিসেবে বিদ্যুৎ গঙ্গোপাধ্যায় ওরফে ‘গুজি’ নামে এক ব্যক্তি তাঁর অফিস থেকে টাকা নিয়ে যায় বলে দাবি মধুসূদনের।

    মধুসূদন জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী ক্যানসার রোগী। সেই কারণে বাড়িতে সব সময়ে কিছু নগদ রাখতেন তিনি। FIR-এ মধুসূদন লিখেছেন, ‘তিনি পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শাসক দলের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তাই অন্য কোনও উপায় না দেখে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য রাখা টাকার কিছুটা নিই। আর বাকিটা একজনের কাছ থেকে ধার করে তাঁর হাতে তুলে দিই।’

    এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। রাতেই নিউটাউনে সব্যসাচীর ফ্ল্যাটে হানা দেন তদন্তকারীরা। প্রাক্তন বিধায়ক তখন সেখানেই ছিলেন। নিজের ফ্ল্যাট থেকেই সব্যসাচীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তার পরে কয়েক ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের শেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    যদিও এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ খোলেনি পুলিশ। সব্যসাচী দত্ত বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিনি বরাবরই বিধাননগরের পরিচিত মুখ। পুর প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সংগঠনেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। ফলে এই ঘটনায় তৃণমূলের উপরে চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রাজ্যে পালাবদলের পরে দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলো সব্যসাচীর নামও।

  • Link to this news (এই সময়)