১৩ বছর পর আবারও যেন বিচারের আশায় সেদিনের কামদুনি, পালা বদলের পর খুলতে চলেছে ফাইল
News18 বাংলা | ০৯ জুন ২০২৬
১৩ বছর পর আবারও যেন বিচারের আলোর অপেক্ষায় কামদুনি। খুলতে চলেছে সেই দিনের ফাইল। উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনকাণ্ডের ১৩ বছর পূর্ণ হল। ২০১৩ সালের ৭ জুনের সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি আজও তাজা কামদুনিবাসীর মনে। এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও প্রকৃত ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহত কলেজছাত্রীর পরিবার এবং আন্দোলনকারীরা।
রবিবার বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় কামদুনিতে উপস্থিত হন স্থানীয় বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সমাজকর্মীরা। নিহত ছাত্রীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হন। আন্দোলনের অন্যতম মুখ মৌসুমি কয়াল ও টুম্পা কয়ালও এদিন উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ফ্রিজের দরজার ‘রাবার’ কালো-চ্যাটচ্যাটে…! ৩ মিনিটে হবে ঝাঁ চকচকে, এই মোক্ষম ‘টিপস’ শিখে নিন!
সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে কামদুনি মামলা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-র সঙ্গে ইতিমধ্যেই সাক্ষাৎ করেছেন মৌসুমি ও টুম্পা কয়ালরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়ায় একাধিক প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে এবং নতুন সরকারের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা, মামলার সমস্ত দিক নতুন করে খতিয়ে দেখা হোক।
সরকারের তরফ থেকেও কামদুনি মামলায় পুনরায় ফাইল খোলার বিষয়টি জানানো হয়েছে। নিহত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তাঁরা সুবিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবার ও গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, অতীতে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় একাধিক ত্রুটি ছিল। নতুন সরকারের কাছে তাঁদের আশা, ঘটনার প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জুন মাসে কামদুনির এক দ্বিতীয় বর্ষের কলেজছাত্রীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে রাজ্য জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদে গর্জে ওঠা আন্দোলন বাংলার অন্যতম গণআন্দোলনে পরিণত হয়। বহু মানবাধিকার সংগঠন, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
এদিন আন্দোলনকারীরা জানান, বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা আজও বহন করে চলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, কামদুনি কেবল একটি নৃশংস ঘটনা বা মামলার নাম নয়, বরং নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের প্রতীক। তাই ১৩ বছর পরও কামদুনির মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন সেই কাঙ্ক্ষিত বিচারের, যা তাঁদের মতে এখনও অধরা। এখন দেখার নতুন সরকার কি সঠিক বিচার দিতে পারে কামদুনি-কে!