'বাবা-মা মিলেই আন্টিকে খুন!' দরজার ফাঁক দিয়ে কী দেখেছিল, পুলিশকে বলল দাস দম্পতির ১০ বছরের ছেলে
News18 বাংলা | ০৯ জুন ২০২৬
পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে নিজেদের দশ বছরের ছেলেকে নিয়েই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুন করতে তাঁর ফ্ল্যাটে গিয়েছিল বর্ধমানের বাসিন্দা দাস দম্পতি৷ শেষ পর্যন্ত দাস দম্পতির দশ বছরের সেই ছেলেই নিজের বাবা-মায়ের কুকীর্তির কথা পুলিশকে বলে দিল৷
গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির একটি অভিজাত আবাসনে খুন হন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি অধ্যাপিকা ৪২ বছরের দেবস্মিতা পাল৷ এই ঘটনায় বর্ধমানের বাসিন্দা এক দম্পতিকে গতকালই গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ৷ রবিবার সকালেই বর্ধমান শহরের ভাড়া বাড়ি থেকে দাস দম্পতিকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ৷ বর্ধমান থানার সহায়তা নিয়েই অভিযান চালায় তারা৷ প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের যে বাড়িতে দাস দম্পতি ভাড়া থাকত, সেটির দখল নিতেই অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুন করে তারা৷
পুলিশ সূত্রে খবর, বাবা-মাকে গ্রেফতারের সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা ১০ বছরের ছেলেকেওো দিল্লি থেকে আসা পুলিশের তদন্তকারী অফিসাররা জিজ্ঞাবাদ করেন। তখনই পুলিশকে সব বলে দেয় অভিযুক্ত দম্পতির ছেলে৷ পরে বাবা ও মাকে গ্রেফতারের পরে ওই বালককে চাইন্ড ওয়েল ফেয়ার কমিটি বা সিডব্লিউসি-র হাতে তুলে দেয় দিল্লি পুলিশ। সোমবার সিডব্লিউসি-র আদালত ওই বালককে বছেলেটির দিদিমার হাতে তুলে দেয়। তদন্ত, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বার্থে ওই শিশুর পরিচয় ও ঠিকানা গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিডব্লিউসি-র পক্ষ থেকে।
সূত্রের খবর, বাবা-মা কীভাবে দেবস্মিতা পালকে খুন করেছিল, তদন্তকারীদের সেই বর্ণনা দিয়েছে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া ছেলেটি। জানা গিয়েছে, পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভ-এর সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে ছেলেকে নিয়েই ঢুকেছিল অভিযুক্ত দম্পতি৷ ভিতরে গিয়ে দেবস্মিতার সঙ্গে কথা বলার সময়ে হঠাৎই উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময় ছেলেকে দেবস্মিতা পালের ফ্ল্যাটের অন্য ঘরে পাঠিয়ে দেয় তার মা। কিন্তু ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে ‘আন্টি’র সঙ্গে বাবা-মায়ের কী করছে, তা দেখে ফেলে দাস দম্পতির ছেলে৷ নিজের চোখে দেখা সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথাই পুলিশকে জানিয়েছে সে।
খুন করার পরে পোশাক বদলে ছেলেকে নিয়ে দ্রুত ওই ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসে অভিযুক্ত দম্পতি। ‘আন্টি’ কেন মেঝেতে পড়ে আছে, সে কথা জানতে চাইলেও বাবা মা তাকে কিছু বলেনি বলেই তদন্তকারীদের জানিয়েছে ছেলেটি। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রথমে দেবস্মিতার মাথায় ইস্ত্রি দিয়ে আঘাত করা হয়৷ এর পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ক্ষুর দিয়ে অধ্যাপিকার হাতের শিরা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে দেওয়া হয়৷
দেবস্মিতাকে খুনের আগে দাস দম্পত্তি ছিল দিল্লির ডাল্লুপুরার রেস্ট- ইন গেস্ট হাউসে। সেখানে প্রমাণ হিসেবে ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ৷ বিহারের নওয়াদার বাসিন্দা সতীশ এবং বর্ধমানের সোমা চৌধুরী নামে দুজনের আধার কার্ড ওই গেস্ট হাউজে জমা দেয় দাস দম্পতি। সেখানে ছবি একই থাকলেও বাকি সমস্ত তথ্য আলাদা ছিল। অপরাধী যেমন অপরাধের কোনও না কোনও প্রমাণ রেখে যায়, তেমনই আধার কার্ড ভুয়ো দিলেও ওই বালকের বাবা নিজের ফোন নম্বরটি আসল দিয়েছিল। সেই ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করেই দিল্লি পুলিশের তদন্তকারী দলের সদস্যরা পৌঁছে যায় বর্ধমান শহরের কার্জনগেট সংলগ্ন বাড়িতে৷ পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায় দাস দম্পতি৷