• সব তৃণমূলকে দলে নয়, সিদ্ধান্ত জেলা কংগ্রেসের
    এই সময় | ০৯ জুন ২০২৬
  • সুমন ঘোষ, খড়্গপুর

    নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রায় এক মাস পরে পর্যালোচনা-বৈঠকে বসলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব। মেদিনীপুর জেলা কার্যালয়ে রবিবারের সেই বৈঠকের নির্যাস, মেরুকরণের ফলে ভোট হয়েছিল দ্বিমুখী। তাই কংগ্রেসও তার নিজের ভোট পায়নি। তবে, নির্বাচনে সমন্বয়ের অভাব ও অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগও উঠল। এ দিনই ভেঙে দেওয়া হলো কংগ্রেসের জেলা কমিটি। সভাপতি দেবাশিস ঘোষ বলেন, 'যত দ্রুত সম্ভব নতুন জেলা কমিটি তৈরি করা হবে।'

    রাজ্যের সর্বত্র তৃণমূলে ভাঙন চলছেই। এই অবস্থায় কংগ্রেস কী ভাবছে? দেবাশিস জানাচ্ছেন, অনেকেই তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে আসার জন্য যোগাযোগ করেছেন। তবে এখনই সকলকে দলে নেওয়া হবে না। কংগ্রেসে যোগ দিতে চাইলে জেলা সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন জানাতে হবে। দুম করে ব্লক বা মহকুমায় কেউ যোগদান করাতে পারবেন না। আবেদন পাওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অন্য অভিযোগ আছে কি না খতিয়ে দেখার পরই তাঁকে দলে নেওয়া হতে পারে। তাঁর কথায়, 'স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা ছাড়া কাউকে দলে নেওয়া হবে না। দুর্নীতি করে এখন অনেকে পিঠ বাঁচাতে আমাদের দলে আসতে চাইবেন। আমরা এমন কিছু করব না যাতে, আমরা রাস্তায় বেরোনোর পরে লোকে আমাদের পচা ডিম ছোড়ে বা দুর্নীতিগ্রস্ত লোকজকে দলে নেওয়ায় পুলিশ তাড়া করে।'

    এ বার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একা লড়েছিল। আগের মতো আর জোট গড়েনি। লক্ষ্য ছিল, নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক ফিরিয়ে আনা। কারণ, ২০১১ থেকে জোট বেঁধে লড়াই করে কংগ্রেসের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয়নি, তার নিজের ঝুলিতে কত ভোট রয়েছে। কিন্তু ভোটের ফল ঘোষণার পরে দেখা গেল, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫টি বিধানসভার মধ্যে ৬টিতে কংগ্রেসের ঝুলিতে নোটার চেয়েও কম ভোট পড়েছে। কংগ্রেস কেবলমাত্র দু'টি বিধানসভায় (খড়গপুর ও শালবনি) ১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। বাকি সর্বত্রই ১ শতাংশের কম ভোট পেয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থীরা।

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে সরব হন কংগ্রেস নেতা তথা মেদিনীপুর পুরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, প্রার্থীরা এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলেননি। চললে হয়তো আরও কিছু ভোট মিলত। এমনকী, নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের দল যে টাকা দেয় সেই টাকাও প্রচারে খরচ না করে নয়ছয়ের অভিযোগ তোলেন তিনি। অনেকে অবশ্য তার প্রতিবাদও করেন। দু'পক্ষের তীব্র বাদানুবাদ শুরু হলে প্রবীণ নেতারা দ্বন্দ্ব মেটান।

    সাইফুল বলেন, 'আমার মনে হয়েছে দলের অভ্যন্তরে আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরা উচিত। তবে এ নিয়ে বাইরে কোনও মন্তব্য করব না।' দেবাশিসও বলেন, 'দল এখন আবার বাড়ছে। অনেকেই বৈঠকে আসছেন। ফলে, নানা জনের নানা মত তো থাকবেই।'

  • Link to this news (এই সময়)