চঞ্চল প্রধান, হলদিয়া
একবার নয়, পরপর দু'বার তাঁকে জিতিয়েছে নন্দীগ্রাম। সেই শুভেন্দু অধিকারী এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনিও নন্দীগ্রামকে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান ও আবেগের জায়গা বলেই মনে করেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে শুভেন্দু বলেন, 'নন্দীগ্রাম নিয়ে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, পালন করব। সংবিধানের নিয়ম অনুসারে নন্দীগ্রাম ছাড়লাম। কিন্তু, আগামী পাঁচ বছর নন্দীগ্রামের মানুষকে কোনও অভাব বুঝতে দেবো না।'
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিটি কথা অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করে নন্দীগ্রাম। আর সেই কারণেই গত শনিবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের পরে আশায় বুক বেঁধেছে নন্দীগ্রাম। সেখানকার বাসিন্দাদের কথায়, 'শুভেন্দু অধিকারী শুধু আমাদের কেন্দ্র থেকে জয়ী বিধায়ক বা মুখ্যমন্ত্রীই নন, তিনি আমাদের পরম আত্মীয়। তাঁর হাত ধরেই নন্দীগ্রামের রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।'
২০০৮-এ বাজকুল থেকে নন্দীগ্রাম, ১৮ কিলোমিটার নতুন রেলপথের ঘোষণা করা হয়। সেই প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজও সম্পূর্ণ। প্রায় ১২০০ জমিদাতাদের মধ্যে সাড়ে ৮০০ জন ক্ষতিপূরণ ও চাকরি পেয়েছেন। প্রকল্পের ৪০ শতাংশ জায়গায় মাটি ফেলার কাজও এগিয়েছে। বাকি রয়েছে ৬০ শতাংশ। মাটির অভাবে থমকে ছিল কাজ। সেই কাজে আগের রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাব ছিল বলেও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
এ বার রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে উন্নয়নের দিশা দেখছেন এলাকার মানুষ। গোকুলনগরের বাসিন্দা গৌরাঙ্গ মণ্ডল বলছেন, 'আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কাজের মানুষ। তিনি কথা দিলে কথা রাখেন। তাঁর হাত ধরেই থমকে থাকা বাজকুল-নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।' আমগেছিয়ার চম্পা দাসের কথায়, 'মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে শুধু রেল নয়, সব প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।'
নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পালের দাবি, 'এখন রাজ্য ও কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার। বিজেপির সংকল্প-পত্রেও আমাদের এখানকার রেল প্রকল্প রূপায়ণের বিষয়টিও ছিল। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘ আলোচনায় নন্দীগ্রামের রেল প্রকল্পের কথাও উঠেছে। এ বার নন্দীগ্রাম-বাজকুল রেল প্রকল্প বাস্তব রূপ পাবে।' প্রলয়ের অভিযোগ, 'প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিকল্পিত ভাবে আমাদের এই রেল প্রকল্পের কাজ হতে দেননি। এ বার আর তা হবে না।'