এই সময়, মেদিনীপুর: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা ইস্তফা দিচ্ছেন। সেই আবহে 'ব্যতিক্রমী' সিদ্ধান্ত নিলেন কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের চিত্ত গরাই। তিনি বলছেন, 'রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু পঞ্চায়েতের কাজে তো কোনও বাধা তৈরি হয়নি। তাই জনগণের স্বার্থে পঞ্চায়েত সমিতির কাজ চালিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য। কেশপুরের উন্নয়ন থমকে যাক, তা আমরা চাই না। প্রয়োজনে সরকার পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করা হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের পরিষেবা বন্ধ রাখা যাবে না।'
কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির ৪৫টি আসনই তৃণমূলের দখলে। ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতেও ক্ষমতায় আছে তৃণমূল। তবে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। কেশপুরের বেশিরভাগ এলাকায় এখন বিজেপির প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু তৃণমূল কার্যালয় বন্ধ। নেতা-কর্মীদেরও প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতেও কেশপুরের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি-সহ কয়েক জন সদস্য নিয়মিত অফিসে এসে প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজেপির স্থানীয় নেতা তন্ময় ঘোষ বলেন, 'কাউকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়নি। যাঁরা কাজ করতে আসছেন, তাঁদেরও কোনও বাধা দেওয়া হচ্ছে না। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।'
স্থানীয় বাসিন্দারাও চাইছেন, রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে উন্নয়নের কাজ অব্যাহত থাকুক। কেশপুরের বাসিন্দা গোপাল দোলইয়ের কথায়, 'রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাক। কিন্তু রাস্তা, পানীয় জল, কৃষিকাজের সুবিধা বা সরকারি প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে সমস্যায় পড়তে হবে সাধারণ মানুষকেই। তাই জনপ্রতিনিধিরা কাজ করলেই তো ভালো।'
কেশপুরের মঞ্জু মাইতি বলছেন, 'ছাত্রছাত্রীদের শংসাপত্র, ভাতা বা সরকারি প্রকল্পের জন্য পঞ্চায়েতে যেতেই হয়। অফিস খোলা থাকলে ও কাজ হলে সকলেরই সুবিধা হবে।'