• হাতির গতিবিধির উপরে নজর রাখবে থার্মাল ড্রোন
    এই সময় | ০৯ জুন ২০২৬
  • বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম

    ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে হাতি। গভীর জঙ্গলে কিংবা রাতের অন্ধকারে তাদের সঠিক অবস্থানও বুঝতে পারছে না বন দপ্তরের এলিফ্যান্ট ভ্যাকার্স টিম। ফলে, আচমকা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে হাতি। বাড়ছে হাতি-নানুষের সংঘাত। বাড়ি-ঘর, ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানিও ঘটছে। এ বার রাতে ও গভীর জঙ্গলের ভিতরে হাতিদের উপরে নজরদারি চালাতে বার্মাল ড্রোনের ব্যবহার করতে চলেছে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগ।

    বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে থার্মাল ড্রোন কিনেছে প্রন দপ্তর। সেই ড্রোন কী ভাবে ব্যবহার করতে হবে সম্প্রতি সে প্রশিক্ষণও শেষ হয়েছে। বন দপ্তরের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, থার্মাল ড্রোন আসলে হিট সেন্সরের মাধ্যমে ছবি ও ভিডিয়ো সংগ্রহ করে। এই ক্যামেরা ৩৬০ ডিগ্রি কোণে নিখুঁত ছবি তুলতে পারে। এটি দৃশ্যমান আলোর পরিবর্তে বস্তুর তাপমাত্রা ও তা থেকে নির্গত ইনফ্রারেড রশ্মির সাহায্যে ছবি ও ভিডিয়ো তোলে।

    ওই আধিকারিকের দাবি, রাতে ও গভীর জঙ্গলে হাতি-সহ অন্য বন্যপ্রাণীদেরও ওই ড্রোনের সাহায্যে চিহ্নিত করে সঠিক অবস্থান বোঝা যাবে। সেই মতো এলিফ্যান্ট ট্র্যাকার্স টিম ও বনকর্মীদের কাজে লাগিয়ে হাতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ওই থামাল ড্রোন ৯০ মিটার উঁচুতে উঠে ৪০০ মিটার এলাকার ছবি ও ভিডিয়ো সংগ্রহ করতে পারবে। একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে রিমোটের মাধ্যমে ড্রোনটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

    দিন কয়েক আগে ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের বৃন্দাবনপুর এলাকায় হাতির অবস্থান জানতে পরীক্ষামূলক ভাবে থার্মাল ড্রোন উড়িয়ে সাফল্য পায় বন দপ্তর। জঙ্গলের কোন জায়গায়, ক'টি হাতি রয়েছে তার সঠিক তথ্যও মেলে। সেই মতো হাতিকে ড্রাইভ করে গভীর জঙ্গলে পাঠায় বন দপ্তর। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের এক আধিকারিক বলছেন, 'থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে হাতি-নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই সহজ হবে। আগামী দিনে হাতি-মানুষের সংঘাতও কমবে।'

    রবিবার ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের শিমুলডাঙার একটি কাজু বাগানে হাতি ঢুকে পড়েছিল। কাজু তুলতে গিয়ে হাতির হানায় মৃত্যু হয় প্রণবপল্লির মৌসুমি মল্লিকের। বন দপ্তরের দাবি, থার্মাল ড্রোনের ব্যবহারে এমন ঘটনা রুখে দেওয়া যাবে। হাতি-মানুষের সংঘাত রুখতে জঙ্গলের মধ্যে হাতির প্রিয় ফলগাছ রোপণ করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম শহরকে হাতি থেকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যাটারিচালিত পালস পাওয়ার ফেন্সিং বসানো হয়েছে। পরিখা কাটা হয়েছে। হাতির করিডরে এআই ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। এ বার থার্মাল ড্রোনের ব্যবহার আরও কার্যকর হবে বলেই দাবি বন দপ্তরের।

  • Link to this news (এই সময়)