মিড ডে মিলের এপ্রিল ও মে মাসের খরচের টাকা ঢোকেনি, বিপাকে রাজ্যের স্কুলগুলি
বর্তমান | ০৯ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, বহরমপুর: রাজ্যে পালাবদলের পর কোনো স্কুলেই এপ্রিল ও মে মাসে মিড ডে মিলের টাকা ঢোকেনি। স্কুলের অ্যাকাউন্টে মিড ডে মিলের টাকা না ঢোকায় অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ চরম উদ্বেগে রয়েছেন। বহু স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের দাবি, মুদির দোকান বা মাসোহারা সবজির দোকানে বাকির পাহাড় জমে গিয়েছে। অনেকেই আর ধারে রান্নার সামগ্রী দিতে রাজি হচ্ছেন না। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহ শিক্ষকরা নিজেদের বেতনের টাকায় পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন কোনোভাবে। অনেকের দাবি, এভাবে বেশিদিন চালানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব হবে না। জেলা সমগ্র শিক্ষা মিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্থবর্ষের শেষে মার্চ মাসের বিলে প্রত্যেক স্কুলে কিছু অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছিল। মে মাসে বেশ কিছুদিন গরমের ছুটি গিয়েছে। খুব শীঘ্রই বকেয়া সব টাকা মেটানো হবে।
১৫ বছর পর রাজ্যে ফের পালাবদল হয়েছে। আর সরকারের পালাবদলের শুরুতেই মিড ডে মিলের বকেয়া নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্কুল শিক্ষকদের দাবি, এপ্রিলের টাকা মে মাসে ঢোকার কথা। আর মে মাসের টাকা ঢোকার কথা ছিল জুনে। তবে এপ্রিল মাসে মাত্র কয়েক দিনই স্কুল হয়েছে। কিন্তু এপ্রিল ও মে মাসের ওই ক’দিনের মিড ডে মিলের বকেয়া টাকা এখনও কোনো স্কুল পায়নি। ফলে বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ চরম অস্বস্তিতে রয়েছে। বিশেষ করে যে সব স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি সেসব কর্তৃপক্ষের সমস্যা আরও ঘোরালো। তাঁদের দাবি, চাল বাদে সবজি বাজার, তেল,ডাল, মশলা, ডিম, গ্যাস সবই স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিজেদের ব্যবস্থায় কিনতে হয়। দু’মাসের টাকা বকেয়া হওয়ায় মুদির দোকান বা সবজি বিক্রেতার কাছে বাকির পাহাড় জমেছে। স্বাভাবিকভাবেই বহু ব্যবসায়ী আর ধারে পণ্য দিতে রাজি হচ্ছেন না। এদিকে জুন মাসে সকালের সেশন চালু হলেও মিড ডে বন্ধ হয়নি।
বেলডাঙা পূর্ব চক্রের এক প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা পাঁচশোরও বেশি। ওই স্কুলের এক শিক্ষক জানান, প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণি অর্ন্তভুক্ত করায় এবার আমাদের স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা পাঁচশো ছাড়িয়েছে। এপ্রিল, মে মাসের টাকা না দেওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চক্রেরই এক প্রধান শিক্ষক জানান, স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা দু’শোর কাছাকাছি। পকেট থেকে টাকা দিয়েই মিড ডি মিলের খরচা তোলা হচ্ছে। বড়ঞা দক্ষিণ চক্রের এক প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, মিড ডে মিল চালানোর সব দায় প্রধান শিক্ষকের উপরেই বর্তায়। যে কোনো পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে চালাতে হচ্ছে। মার্চ মাসে কিছু অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছিল। আশা করি কিছু দিনের মধ্যেই সেই বকেয়া মিটে যাবে।
ফলে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন কোনো স্কুলেই মিড ডে মিল বন্ধ নেই। নিয়মিত পড়ুয়াদের পাতে তাদের বরাদ্দ খাবার পড়ছে বলেই জানা গিয়েছে।