• সাত দিনে সরাতে হবে দোকানপাট, এসডিও’র নির্দেশে দিশাহারা রঘুনাথপুরের ব্যবসায়ীরা
    বর্তমান | ০৯ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য শহরের মতো এবার রঘুনাথপুরেও বুলডোজার চলবে। সোমবার সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা করা ব্যক্তিদের হুঁশিয়ারি দিতে মহকুমা প্রশাসন ও রঘুনাথপুর পুরসভা একযোগে পথে নামে। এদিন রঘুনাথপুরের মহকুমা শাসক মিঠুন বিশ্বাস, রঘুনাথপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রোহেদ শেখ সহ পুরসভা ও থানার অন্যান্য আধিকারিকরা ছিলেন। তাঁরা রঘুনাথপুর-বরাকর রাজ্য সড়কের সালকা মোড় থেকে এলআইসি মোড় পর্যন্ত প্রতিটি দোকানদারদের সতর্ক করেন। সরকারি জায়গায় দখল করে থাকা প্রতিটি দোকানদারকে পসরা তুলে নেওয়ার জন্য জানানো হয়। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্ত দোকানদারদের জায়গা খালি করে দিতে হবে। না হলে বুলডোজার চালানো হবে। মহকুমা প্রশাসনের নির্দেশের পর হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দিশেহারা। এখন কীভাবে তাঁদের সংসার চলবে, তাই নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের তরফ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

    রঘুনাথপুর শহরে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা দখল করে একদল মানুষ ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ। রঘুনাথপুর-বরাকর রাজ্য সড়কের রঘুনাথপুর কলেজ থেকে বুন্দলা সেতু পর্যন্ত দু’ ধারে ফুটপাতজুড়ে প্রচুর দোকানপাট গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে, রঘুনাথপুর-বাঁকুড়া, রঘুনাথপুর-চেলিয়ামা, এবং রঘুনাথপুর-সাঁওতালডিহি সড়কের দু’ পাশে ফুটপাত ঘিরে দোকানপাট হয়েছে। পুরসভার এলাকার ভিতর বাজার, হাটতলা, সিনেমা হল রোড, ঢালাই রোড এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চলছে। পুরসভার তরফ থেকে গত বৃহস্পতিবার অবৈধ দখলদারি সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। সেখানে ৭ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে শহরের কোন অংশ দখল মুক্ত করা হবে, তার জন্য কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া ছিল না। যা নিয়ে একটি সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সংশয় দূর করতে এদিন মহকুমা প্রশাসন পথে নামে। কোন কোন দোকানগুলি হাটিয়ে নিতে হবে সেই বিষয়ে সকলকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

    ফুটপাতে থাকা মেনকা সিং, প্রতিমা বাউরি বলেন, সরকার আমাদের থাকার ব্যবস্থা করুক। আমরা কোথায় যাব? পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি বলেন, কয়েকদিন আগে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ফুটপাত ও অবৈধ দখলদারি হাটানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক পুরসভার প্রশাসনে তরফ থেকে মাইকিং করা হয়েছিল।

    রঘুনাথপুর শহর কংগ্রেস সভাপতি তারকনাথ পরামানিক বলেন, আমাদের দাবি, উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে দোকানদারদের স্থানীয় কারখানাগুলিতে চাকরি ব্যবস্থা করতে হবে। দোকানের আয় থেকে কোনোরকম সংসার চলে। সরকার যেভাবে বুলডোজার চালানোর রাজনীতি করছে তাতে অসংখ্য পরিবার রাস্তায় নেমে আসবে।

    রঘুনাথপুর শহর হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির তরফে বিনয় ভট্টাচার্য বলেন, ফুটপাত দখল মুক্ত হোক আপত্তি নেই। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে সাধারণ মানুষের জীবিকার জন্য একটি ফুটপাত কর্নার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। প্রচুর শিক্ষিত বেকার যুবক কাজ না পেয়ে ফুটপাতে দোকান করে পেট চালাচ্ছে। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক।

    লোকনাথপুর বিধানসভার বিধায়ক মামনি বাউরি বলেন, ফুটপাতের বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নই। মহকুমার শাসকের সঙ্গে কথা বলব। মহকুমা শাসকের দপ্তরে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)