নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বহরমপুরে চলছে বিজেপি তৃণমূলের সখ্যতা। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা বর্ষীয়ান নেতা অধীর চৌধুরীর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর শহরজুড়ে চর্চা শুরু হয়। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে কংগ্রেসের এই দাবি উড়িয়ে দিল বিজেপি।
অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, বহরমপুর পুরসভা এখন চালাচ্ছে বিজেপি পার্টি। বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সখ্যতা দেখা যাচ্ছে। বিজেপি নেতা ও তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে সখ্যতা দেখতে পাচ্ছে এখানকার মানুষ। রাজ্যের সমস্ত পুরসভায় চোর ধরা হয় কিন্তু এখানে কিছু হয় না। এটাই অবাক করার মতো ব্যাপার। তিনি আরও বলেন, চুরি করা তৃণমূলের সংস্কৃতি। এরা মানুষের টাকা চুরি করেছে, সরকারি প্রকল্পের টাকা চুরি করেছে। এখন দু’-চারটে নেতা ধরা পড়েছে। এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। বহরমপুর পুরসভায় চুরির কোনো তদন্ত হচ্ছে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, এখন যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা পুরসভার চোরেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মেরে ফাঁক করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।
পাল্টা বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, কংগ্রেস নেতা অধীরবাবু বলেন বিজেপি ও তৃণমূল যুক্তি করে পুরসভা চালাচ্ছে। তার দু’ দিন পরে তিনি আবার তৃণমূলকে বলছেন কংগ্রেসে যোগ দিতে। কখন কী বলছেন বা করছেন তা বুঝতে পারছে না। গোটা রাজ্যে যত বিরোধী দল সব মুর্শিদাবাদে। কংগ্রেস, সিপিএম ও বাঁশি সব মুর্শিদাবাদে জেলায়। এখানে ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু বাস করে। তারা যদি এখনও এই রাজনীতি না বোঝে, তাহলে কখনওই উন্নতি হবে না। অধীরবাবু প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আবার তৃণমূলকে ডাকছেন। কয়েকদিন আগে তিনি আবার হেরেছেন। পশ্চিমবঙ্গ যে উন্নয়নের পথে হাঁটছে এখন সেখানে মুর্শিদাবাদের মানুষ যদি উল্টো পথে হাঁটে, সেটা অন্তরায় হবে তাঁদেরই জন্য। মুর্শিদাবাদের উন্নতি যাতে হয় সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।
মলয়বাবু আরও বলেন, সিপিএম কংগ্রেস সেটিং সেটা সবাই জানে না। সেটিং বলে কিছু নেই। সেটা থাকলে বিজেপি এই ফল করতে পারত না। বিজেপি কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত রাগ ও ক্ষোভ থেকে তার বাড়িতে পুলিশ পাঠাবে না। নিশ্চিত কোনো অভিযোগ থাকলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তবে কেন এই তদন্ত হচ্ছে না, সেটা উচ্চ নেতৃত্বের নজরে আনছি। তবে বহরমপুরে কয়েকটি অবৈধ ফ্ল্যাটের কাজ বন্ধ করেছি প্রশাসনকে বলে।
তবে বহরমপুর পুরসভা নিয়ম না মেনে একাধিক জায়গায় ফ্ল্যাট ও বহুতল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে বলেই অভিযোগ। সরকারি জমি ও পার্ক দখল করে তৈরি হয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও পার্কিং লট। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সুবিধার্থে গড়ে তোলা হয় সে সব। নির্বাচনের আগে একাধিকবার পুকুর বুজিয়ে প্রোমোটিং ও অন্যান্য অসাধু কাজের বিরোধিতা বিজেপি করলেও, নির্বাচনে জয়লাভের পর এখন পুর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সেভাবে কোনো অভিযোগ নেই বলেই সাধারণ মানুষের অবাক লাগছে।