অন্নপূর্ণার টাকা প্রৌঢ়, ছাত্রীকে! ফেরত দিতে বিডিওর দ্বারস্থ
বর্তমান | ০৯ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ১৮ বছর বয়সি এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পাশ ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে ঢুকল অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা। পুরুষের অ্যাকাউন্টেও রাজ্য সরকারের মহিলাদের জন্য ঘোষিত অন্নপূর্ণার অনুদান ঢুকেছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল ব্লকে এমনই ঘটনা সামনে এসেছে। অথচ, তাঁরা কেউ ফর্ম পূরণ করেননি। গত ৩জুন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাঠানো শুরুর দিনেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। অনেকের বাড়িতে ফর্ম পৌঁছালেও তা পূরণ করে জমা না করেই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে বলে খবর। মহিষাদল ব্লকের ঘাগরা গ্রামের সৃজনী দাস বিডিওকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর অ্যাকাউন্টে কীভাবে অন্নপূর্ণার টাকা ঢুকল, তা ওই ছাত্রী জানতে চেয়েছেন। তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন। লক্ষ্যা-২ পঞ্চায়েতের চাঁপি গ্রামের বাবুলাল সওদাগর বুঝতেই পারছেন না, তাঁর অ্যাকাউন্টে কীভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকে গেল! তিনিও ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে এনিয়ে যোগাযোগ করেছেন। মহিষাদলের বিডিও জিষ্ণু দে বলেন, দু’টি ঘটনা আমাদের নজরে এসেছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংশোধন করা হবে।
গত ২৭মে পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে ২লক্ষ ৮৬৫০উপভোক্তার অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা লিস্ট চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য। ২জুনের মধ্যে ওই লিস্ট চূড়ান্ত করতে হবে বলে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। শুরুতে ফর্মের অপ্রতুলতা, ১২পাতার আবেদন জমা করার জটিলতা, সার্ভারের সমস্যা সহ নানা কারণে ওই টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে হিমশিম খায় প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত ২লক্ষ ৬৫৩৬জনের উপভোক্তা লিস্ট চূড়ান্ত করা হয়। জানা গিয়েছে, ফর্ম পূরণ করে জমা না দিয়েই বেশ কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার ঘটনা ঘটেছে। আবার, অযোগ্যদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ঘটনায় সামনে এসেছে।
এবার মহিষাদলের গয়েশ্বরী বালিকা বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন কিসমত নাইকুণ্ডি পঞ্চায়েতের ঘাগরা গ্রামের সৃজনী। বাবা মিলনপ্রিয় দাস জামা-কাপড়ের ব্যবসা করেন। সৃজনীর মা মিতাদেবী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা। তবে, তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম এখনো পূরণ করেননি। গত ৩জুন সৃজনীর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা ঢুকেছে। প্রথমে কন্যাশ্রীর টাকা ভেবেছিলেন। যদিও খটকা লাগে। অ্যাকাউন্ট ডিটেলস বের করে দেখেন, সেটি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। এরপর সৃজনী অবাক হন। তিনি মহিষাদলের বিডিওকে চিঠি দিয়েছেন। তাতে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা হিসাবে যোগ্য না হয়েও কীভাবে টাকা ঢুকল তা জানতে চেয়েছেন। একইভাবে সেই টাকা ফেরত দিতে চান বলেও জানিয়েছেন। সৃজনী বলেন, কীভাবে এমনটা হল বুঝতে পারছি না। তবে, বিডিও অফিসে চিঠি দিয়েছি। টাকা ফেরত নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছি।
মহিষাদলের চাঁপি গ্রামের বাবুলাল সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। গত ৩তারিখ তাঁর অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢুকেছে। স্থানীয় সিএসপিতে লেনদেন করেন বাবুলাল। সেখানে গিয়ে চেক করে দেখেন, ওই টাকা অন্নপূর্ণা যোজনার। এরপর বিডিও অফিসে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর স্ত্রী ফিরোজা সওদাগর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা। ফিরোজা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সংগ্রহ করলেও এখনো জমা করেননি। বাবুলাল বলেন, কীভাবে এমনটা হল জানি না। তবে, বিডিও অফিস থেকে লোকজন এসেছিলেন। তাঁরাও জানিয়েছেন, আমার অ্যাকাউন্টে ভুলবশত অন্নপূর্ণার তিন হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে।