• পুরপ্রধান সহ ইস্তফা ১০ কাউন্সিলারের, সংকটে মেমারি পুরসভা
    বর্তমান | ০৯ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দু’দিন আগেই মেমারি পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন বিষয়ীর বাড়ি ঘিরে জনতা ‘চোর, তোলাবাজ’ স্লোগান দিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন মেমারি শহরের বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। তাঁর পদত্যাগের খবর শহরে ছড়িয়ে পড়তেই উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকেই বলেন, তিনি পুরসভায় দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিলেন। জমিদারের মতো ছিল তাঁর আদবকায়দা হয়ে গিয়েছিল। মানুষকে কথায় কথায় অপমান করতেন। পরিষেবা লাটে উঠেছিল। অবশেষে সরকার বদল হওয়ায় এবার মেমারির বাসিন্দারা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন। সোমবার ১০জন কাউন্সিলারও পদত্যাগপত্র জমা করেছেন। এর আগে আর এক কাউন্সিলারও পদত্যাগ করেছিলেন। সব মিলিয়ে ১৬জনের মধ্যে ১১জনই পদত্যাগ করলেন। স্বপনবাবু অবশ্য এনিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।

    মেমারির বিধায়ক মানব গুহ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, দুর্নীতির বোঝা ঘাড়ে নিয়ে পদত্যাগ করলেন স্বপন বিষয়ী। ভোটে জিতে মেমারি পুরসভা চালাবে বিজেপি। যাদের কাছে জোর করে টাকা তোলা হয়েছে তাঁরা নির্দ্বিধায় মেমারি থানায় অভিযোগ করুন। 

    শহরের এক বাসিন্দা বলেন, পুরসভায় ঘুঘুর বাসা তৈরি হয়েছিল। টাকা দিলে কাজ হয়ে যেত। আর টাকা দিতে না পারলে দিনের পর দিন ঘুরতে হত। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতেও তৃণমূল নেতাদের কাছে দরবার করতে হত। 

    বিজেপির অভিযোগ, স্বপনবাবুর আমলে কয়েকটি নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেগুলি নিয়ে তদন্ত করা হবে। এছাড়া জল প্রকল্পের টাকাও নয়ছয় হয়েছে বলে অভিযোগ। রাস্তা সংস্কারের কাজ ঠিকমতো হয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। 

    তৃণমূলের অনেকেই বলছেন, স্বপনবাবু নিজের মেজাজে চলতেন। তিনি দলেরও অনেক নেতাকে গুরুত্ব দিতে চাননি। তৃণমূলের জমানাতেই মেমারি শহরজুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়েছিল। তাতে লেখা ছিল,  চেকপোস্টের কাছে ১৭টি ঘর তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকায় কে বিক্রি করল? শহরের সমস্ত গাছ মেরে টেন্ডার ছাড়া কার মদতে বিক্রি হল, তার তদন্ত চাই। ডিভিসির দু’পাশের জায়গা কীভাবে বিক্রি হল? এধরণের নানা বিষয়ে পোস্টার পড়ে। তা ঘিরে শহরজুড়ে তোলপাড় পড়ে যায়। সেইসময় তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, অভিযোগ করা সহজ। কিন্তু সেটা প্রমাণ করতে না পারলে এসব কথা বলার যুক্তি নেই। অনেক নেতার নামেই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

    মেমারির বাসিন্দারা বলছে, অল্প বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। তৃণমূল জমানায় নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি করা হয়নি। পানীয় জলের সমস্যাও রয়েছে। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে নতুন বোর্ডের জোর দেওয়া উচিত।
  • Link to this news (বর্তমান)