• উচ্চবর্ণের কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্ব, দলিত যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে
    এই সময় | ০৯ জুন ২০২৬
  • মাস ছয়েক আগে উচ্চবর্ণের এক কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল। সেই ‘অপরাধেই’ কেতন লাল (১৮) নামে এক দলিত যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল কিশোরীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়ালের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন মৃতের বন্ধু দিবাকর দিমরি। বৌরাড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়োয়ালের দেওয়াল গ্রামে বাড়ি কেতনের। মাস ছয়েক আগে খোলগড় গ্রামের এক কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় তাঁর। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ায় প্রেমে। ফোনে নিয়মিত কথা হতো তাঁদের। মাঝে মধ্যে দেখাও করতেন। কয়েক দিন আগে তাঁদের সম্পর্কের কথা জানতে পেরে যায় কিশোরীর পরিবার। মৃতের বাবা ধনপাল লালের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার রাত ১১টা নাগাদ কেতনকে ফোন করে তাঁদের গ্রামে আসতে বলে ওই কিশোরী।

    কিশোরীর ফোন পেয়েই বন্ধু দিবারকে নিয়ে খোলগড় গ্রামে রওনা দেন কেতন। পুলিশের দাবি, তাঁরা সেখানেই পৌঁছতেই দু’জনকে ধরে একটা ঘরে বন্দি করে রাখেন কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা। এর পরে লাঠি দিয়ে তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সোমবার সকালে ধনপালকে ফোন করে ছেলেকে নিয়ে যেতে বলেন কিশোরীর বাবা।

    পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ধনপাল। সেখানে গিয়ে কেতন এবং দিবাকরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তৎক্ষণাৎ দু’জনকে উদ্ধার করে চৌন্দ লম্বগাঁওয়ের একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কেতনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে দিবাকরকে স্থানান্তরিত করা হয় বৌরাড়ি জেলা হাসপাতালে।

    অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তেহরি গাড়োয়ালের পুলিশ সুপার শ্বেতা চৌবে জানিয়েছেন, খুনের অভিযোগের পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ৩(২)(ভি) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই যশবীর সিং পাঁওয়ার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।

  • Link to this news (এই সময়)