• ফিনাইল খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা, ‘মেটা’র নোটিফিকেশন প্রাণ বাঁচাল উত্তরপ্রদেশের যুবকের
    এই সময় | ০৯ জুন ২০২৬
  • দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিক সমাজ মাধ্যমের একের পর এক নোটিফিকেশনে তিতিবিরক্ত হয়ে যান ইউজ়াররা। অনেকে বাধ্য হয়ে নোটিফিকেশনের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হতে অ্যাপ আনইনস্টলও করে দেন। কিন্তু, এ বার তেমনই এক নোটিফিকেশন উত্তরপ্রদেশে এক যুবকের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করল সেখানকার পুলিশকে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার উত্তরপ্রদেশের মিরাটে। সোমবার পুলিশের তরফে এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধে ৬:৫৩ মিনিটে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ‘সোশ্যাল মিডিয়া সেন্টার’-এ একটি ইনস্টাগ্রাম নোটিফিকেশন আসে। সেই নোটিফিকেশনের সূত্রে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো খুঁজে পায় পুলিশ। সেই ভিডিয়োতে দেখা যায়, উত্তরপ্রদেশের মিরাটের সারধানা এলাকার এক যুবক ফিনাইল খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। সেই ভিডিয়োর ক্যাপশনে লেখা, ‘এ বার তুমি তোমার জীবনে খুশি থেকো।’

    এই ভিডিয়ো দেখেই সঙ্গে সঙ্গে ওই যুবকের লোকেশন খুঁজে বের করে পুলিশ। এরপরে পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলের নির্দেশে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি দল ওই যুবকের বাড়ির দিকে রওনা দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখে ঘরের মধ্যে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই যুবক। ঘর থেকে ফিনাইলের একটি বোতলও উদ্ধার হয়। পুলিশ যুবকের পরিবারের লোকজনের সাহায্যে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করায়। পুলিশ জানিয়েছে, যুবকের অবস্থা স্থিতিশীল।

    প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, সম্প্রতি প্রেমের সম্পর্কে ‘ব্রেক-আপ’ হয়ে যাওয়ার কারণে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন যুবক। সেই কারণেই ফিনাইল খেয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ওই যুবকের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।

    ২০২২ সালে সমাজ মাধ্যম ‘মেটা’র সঙ্গে একটি চুক্তি করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে কোনও আত্মহত্যা-সংক্রান্ত পোস্ট করা হলে, সেই পোস্টের নোটিফিকেশন সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে পৌঁছে যায়। পুলিশ জানিয়েছে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে এই টেকনোলজির মাধ্যমে ৩,০১১টি আত্মহত্যার ঘটনা এড়ানো গিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)