• PMSMA-র এক দশকে মায়ের স্বাস্থ্যের রূপান্তর: জগৎ প্রকাশ নাড্ডা
    এই সময় | ০৯ জুন ২০২৬
  • জগৎ প্রকাশ নাড্ডা

    প্রতিটি নিরাপদ গর্ভাবস্থা মহিলাদের প্রতি দেশের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। একটি দেশ যেটি বছরে প্রায় ২.৯ কোটি গর্ভাবস্থার সাক্ষী থাকে, সেই মাত্রায় নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজন জোরালো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ঠিক সময়ে চিকিৎসা।

    গত এক দশকে ভারতের উল্লেখযোগ্য সাফল্য মাতৃত্বকালীন মৃত্যুহারে উল্লেখযোগ্য হ্রাস। এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান (পিএমএসএমএ)। যা দশম বর্ষে পা দিয়েছে। এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল ২০১৬-র ৯ জুন। বিনামূল্যে, প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলাকে গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায়ে প্রত্যেক মাসের ৯ তারিখে পরিষেবা দেওয়ার দেশজোড়া আন্দোলনের নামই পিএমএসএমএ।

    নবম দিনটি বেছে নেওয়ার তাৎপর্য রয়েছে। গর্ভাবস্থা ৯ মাসের যাত্রা। প্রত্যেকটি মাস বয়ে আনে নতুন আশা। মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যের জন্য প্রত্যেক মাসের নবম দিনটি উৎসর্গ করার মাধ্যমে পিএমএসএমএ এটা মনে করায় যে, প্রত্যেকটি গর্ভাবস্থার জন্য প্রয়োজন ৯ মাস ধরে যত্ন, নজরদারি, যতক্ষণ না স্বাস্থ্যবান নবজাতকের নিরাপদ আগমন হচ্ছে। মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যের শিক্ষণীয় দিকটি হলো, কোনও গর্ভকালীন অবস্থাই সম্পূর্ণ ঝুঁকিহীন নয়। আজ যে গর্ভকালীন অবস্থাকে স্বাভাবিক মনে করা হচ্ছে, পরের দিনই তাতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। জটিলতার চিকিৎসা দিয়ে পিএমএসএমএ মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য পরিষেবাকে শক্তিশালী করেছে।

    পিএমএসএমএ-এর অধীনে নিরাপদ প্রসব না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরামর্শ ছাড়াও অতি ঝুঁকিসম্পন্ন গর্ভবতী মহিলারা পেয়ে থাকেন অতিরিক্ত পরামর্শ। এই উদ্যোগে অতি ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে নাম ধরে নজর রাখা হয় এবং প্রসবের পরেও ৪৫ দিন পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়ার শক্তিশালী ব্যবস্থা রয়েছে। রূপায়ণ, নজরদারি এবং দায়বদ্ধতাকে আরও জোরদার করতে ভারত সরকার পিএমএসএমএ পোর্টাল তৈরি করেছে, যা এই কর্মসূচির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছেন স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা।

    সমন্বিত এই প্রয়াসের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এনআরএস)-এর ২০২২-২৪-এর হিসেব অনুযায়ী ভারতের মেটার্নাল মর্টালিটি রেশিয়ো (এমএমআর) প্রতি ১ লক্ষ প্রসবে কমে দাঁড়িয়েছে ৮৭-তে।

    গত এক দশকে পিএমএসএমএ-এর মাত্রা এবং তার আওতা যতটা বেড়েছে তা অভূতপূর্ব। ২০১৬-য় সূচনা থেকে দেশজুড়ে এই কর্মসূচিতে ৭.৫ কোটির বেশি প্রসবপূর্ব চেক-আপ হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ পিএমএসএমএ-তে ১.১৭ কোটির বেশি অতি ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা চিহ্নিত হয়েছে।

    পিএমএসএমএ-এর ১০ বছর সেই জন্য শুধুমাত্র একটি কর্মসূচির উদযাপন নয়, এটা প্রমাণ করে যে কী ভাবে সাফল্য অর্জন করা যেতে পারে। লক্ষ্যটা স্পষ্ট, প্রত্যেক মা যেন বাঁচেন। প্রত্যেক নবজাতক যেন প্রাণবন্ত হয়।

    (লেখক কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং রাসায়নিক ও সার মন্ত্রী)

  • Link to this news (এই সময়)