পরিবারের সদস্যদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও ছেলে
আজকাল | ০৯ জুন ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভয়ঙ্কর পারিবারিক হিংসার সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি এলাকা। সোমবার রাতে গাদং ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের জুরাপানি হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় পরিবারের চার সদস্যের ওপর ভয়াবহ হামলা চালাল বাড়িরই এক ছেলে।
ঘটনায় রক্তাক্ত হয়ে ওঠে গোটা বাড়ি। জানা গিয়েছে, দশম শ্রেণিতে পড়া বাড়ির ওই ছেলের বিরুদ্ধে নিজের মা-সহ পরিবারের চার সদস্যের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর মায়ের। গুরুতর আহত হয়েছেন বাবা-সহ তিনজন। স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, হামলা চালানোর পর আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই কিশোর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ৮টা নাগাদ অভিযুক্ত কিশোর আচমকাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরিবারের সদস্যদের উপর চড়াও হয়। প্রথমে তার মা দীপালি সরকারের উপর হামলা চালায়।
মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বাবা নেপাল সরকারকেও এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে অভিযুক্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন কিশোরের জ্যাঠতুতো দিদি প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং জেঠিমা সন্ধ্যা সরকার।
অভিযোগ, তাঁদের ওপরেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় চারজনই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় দীপালি সরকারের। গুরুতর আহত নেপাল সরকারকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
সেখানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, গুরুতর জখম প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং সন্ধ্যা সরকারকে ভর্তি করা হয়েছে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।
চিকিৎসকরা তাঁদের অবস্থাও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার পর অভিযুক্ত কিশোর আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলেও জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই, অভিযুক্তকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। বর্তমানে পুলিশি নজরদারিতে তার চিকিৎসা চলছে। মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়েছে ওই বাড়িতে পৌঁছান গাদং এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আকাশি সরকার।
তবে কী কারণে পরিবারের সদস্যদের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলা চালাল ওই ছাত্র তা এখনও স্পষ্ট নয়। পারিবারিক অশান্তি, মানসিক অবস্থা নাকি অন্য কোনও কারণ, সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।