জামতাড়া গ্যাংয়ের সাড়ে ৮ কোটি ‘লুট’ পুলিশের, ফের ‘ছানবিন’ শুরু
বর্তমান | ০৯ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল জমানায় জামতাড়া গ্যাংয়ের কাছ থেকে কোটি টাকা লুট করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ চোরের উপর বাটপারি আইনরক্ষকদের! ২০২৩ ও ২০২৫ সালে ঘটনাগুলি ঘটেছে হেয়ার স্ট্রিট ও শেক্সপিয়র সরণি থানা এলাকায়। অভিযোগ, এর নেপথ্যে ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি পদযর্মাদার প্রাক্তন অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। ছায়াসঙ্গী রুহুল আমিন আলি শাকে দিয়ে এই ঘটনা ঘটান বলে খবর। প্রভাব খাটিয়ে প্রাক্তন ওই পুলিশকর্তা কোনো কেস করতে দেননি বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি তদানীন্তন পুলিশ কমিশনারের কানে গেলে শুধু ‘ক্লোজ’ করা হয় ওই পুলিশ কর্মীকে। পালাবদলের পর এই কেস নিয়ে ফের নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে।
জামতাড়া গ্যাংয়ের একাধিক সদস্য কলকাতায় ধরা পড়েছে বিভিন্ন সময়ে। লালবাজার সূত্রের খবর, এই প্রতারণা চক্রকে ‘টার্গেট’ করেছিলেন শান্তনুবাবু। অভিযোগ,২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে শান্তনুবাবুর ছায়াসঙ্গী রুহুলের কাছে খবর আসে, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ লাগোয়া এলাকায় আসছে জামতাড়া গ্যাংয়ের সদস্যরা। প্রতারক চক্রের কাছে কোটি টাকা রয়েছে। তিনি বিষয়টি শান্তনুবাবুকে জানান। ছায়াসঙ্গীকে শান্তনুবাবু নির্দেশ দেন অভিযান চালাতে। অভিযোগ, ওই অফিসার তাঁর ঘনিষ্ঠ পুলিশ কর্মীদের নিয়ে গাড়িটি আটকে জামতাড়া গ্যাংয়ের সদস্যদের থেকে ৫ কোটি টাকা নেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, জামতাড়া গ্যাংয়ের মাথায় হাত রয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটের। তাদের ছত্রছায়াতেই এ রাজ্যে কাজ চালাচ্ছিল ওই গ্যাং। সূত্রের খবর, ওই সময় ক্যামাক স্ট্রিট থেকে ফোন যায় তদানীন্তন সিপির কাছে। তার পরেই আসরে নামেন শান্তনুবাবু। তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি চেপে দেন। তাঁর ছায়াসঙ্গীকে ক্লোজ করা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই ওই অফিসারকে আবার ফেরত পাঠানো হয় হেয়ার স্ট্রিটে। শান্তনুবাবু প্রভাব খাটিয়ে ছায়াসঙ্গীকে বদলি করে নিয়ে আসেন শেক্সপিয়র সরণি থানায়।
২০২৫ সালে ফের একই অভিযোগ ওঠে শান্তনুবাবু ও রুহুলের বিরুদ্ধে। এবার জামতাড়া গ্যাংয়ের থেকে লুট করা হয় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। বিষয়টি শেক্সপিয়র সরণি থানার এক অফিসার জেনে যাওয়ায়, তাঁকে চেতলা থানায় বদলি করা হয়। সিপির কানে যায় বিষয়টি। ওই অফিসারকে কিছুদিন ক্লোজ করা হয়েছিল। পালাবদলের পর এই দুটি কেস নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে লালবাজার। এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুহুলবাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। শান্তনুবাবুর আইনজীবীদের দাবি, মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।