বদল হচ্ছে স্থান, তাজপুর নয় এবার পূর্ব মেদিনীপুরের এখানে হবে গভীর সমুদ্র বন্দর
News18 বাংলা | ০৯ জুন ২০২৬
: গভীর সমুদ্র বন্দরটি তাজপুরে নয়, বরং দাদন পাত্রবাড়ে নির্মিত হবে। নবান্নের সভাকক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই দাদন পাত্রবাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেল। আবার সেই সঙ্গে দাবি উঠল পুনর্বাসনেরও। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় গভীর সমুদ্র বন্দর কি এবার বাস্তবের মুখ দেখবে! আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে আশার আলো দেখছেন রামনগরবাসী। দাদন পাত্র বাড়ে নতুন গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে উঠলে শুধু রামনগর নয়, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার আর্থসামাজিক পরিবেশ বদলে যাবে বলে অভিমত সাধারণ মানুষের।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগরে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার বরাত দেওয়া হয়েছিল আদানি গোষ্ঠীকে। ২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের প্রশাসনিক সভায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছিলেন তাজপুর বন্দরের কাজ শুরু হয়েছে এবং সেখানে প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তোলার জন্য আদানি গোষ্ঠী অর্থ লগ্নি করবে বলেই দাবি করেছিলেন। তৎকালীন প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী এই প্রকল্পে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। বন্দর গড়ে উঠলেই বদলে যাবে এখানকার জনপদ। সড়ক ও রেলপথ এসে পৌঁছবে সমুদ্রতীরে।
তাজপুরে সমুদ্রবন্দর তৈরির পরিকল্পনা অনেকদিনের দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ২৫ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র তাজপুর বন্দরের সাইট অফিস হয়েছে এবং বেশ কয়েকবার প্রশাসনিক কর্তা সহ আদানির লোকজন সরেজমিনে এসে ঘুরে গিয়েছেন এ ছাড়া কিছুই হয়নি। বাঙালির তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দরের স্বপ্ন আজও অধরা। তাজপুর, চাঁদপুর, শংকরপুর-সহ সামগ্রিক এলাকার প্রকৃত পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন ছিল। মাঝে কেটেছে বেশ কিছুটা সময়। রাজ্যে পালা বদল হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু গভীর সমুদ্র বন্দর। তবে এবার তাজপুর না। এই গভীর সমুদ্র বন্দর বর্তমান রাজ্য সরকার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে তাজপুর থেকে সরে বন্দর গড়ে উঠবে দাদন পাত্র বাড়ে।
দাদন পাত্র বাড়ের স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তেশ্বর পায়ড়া বলেন, “দাদন পাত্র বাড়ে আগে বেঙ্গল সল্টের কারখানা ছিল। সেই কারখানা বন্ধ হয়েছে অনেক দিন। এলাকার মানুষের মূল জীবিকা সমুদ্রে মাছ ধরা। এখানে বন্দর হলে এলাকার আর্থসামাজিক পরিবেশ বদলে যাবে। প্রভূত উন্নয়ন হবে। তবে মৎস্যজীবীদের পুনর্বাসনও দরকার। আমরা নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি।” রামনগর ২ ব্লকের দাদনপাত্রবাড় মৌজায় প্রচুর সরকারি জমি হাতে রয়েছে প্রশাসনের। বাকি জমির কথা ভাবা ও ভাবা হচ্ছে। ওই পরিবেশ ঠিক হবে বলেই মনে করা যায়। পাশাপাশি জেলায় মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রা ও মানোন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মত প্রকাশে খুশি তারাও।