'মমতাদিদি ৯০%, কিন্তু আমি ১০০% নিশ্চিত,' পশ্চিমবঙ্গে 'ভোট চুরি' ইস্যুতে রাহুল
আজ তক | ০৯ জুন ২০২৬
বিরোধীদের তৈরি INDI জোটে রাশ হারিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সুযোগে এগিয়ে এলেন কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পশ্চিমবঙ্গে ভোটচুরির অভিযোগে বিরোধী জোটের মিটিংয়ে সরব হলেন রাহুল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস যখন ভেঙে যাচ্ছে,তখন বিরোধী ঐক্যকে আরও মজবুত করার মরিয়া চেষ্টা করছেন রাহুল। একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কংগ্রেসের সঙ্গে দোস্তি বাড়াতে দেখা যাচ্ছে মমতাকেও।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট চুরি নিয়ে সরব রাহুল
ইন্ডি জোটের মিটিংয়ে ভোটচুরি ইস্যুতে সরব হয়ে রাহুল বললেন, 'মমতাদিদি ৯০ শতাংশ নিশ্চিত, অখিলেশ, তেজস্বী হয়তো ৪০ শতাংশ নিশ্চিত, কিন্তু আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত যে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটচুরি হয়েছে।' বিরোধী জোটের একাংশের দাবি, ব্যালট পেপারেই ভোট করা উচিত, ইভিএম নয়।
জোটসঙ্গীদের একতা বজায় রাখতে সতর্ক করলেন বিরোধী দলনেতা
সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে হয় জোটের বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন ২৩টি দলের বিরোধী দলের নেতা এবং তাঁদের প্রতিনিধিরা। এদিনের বৈঠকে উঠে আসে এসআইআর এবং ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির অভিযোগের ইস্যুগুলিও। এসব বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনপত্র জানানোর বিষয়ে জোট ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বিরোধী জোটের নেতা যে রাহুলই, তা এদিন প্রতি মুহূর্তেই বোঝা গেল। জোটসঙ্গীদের সতর্ক করে বললেন, 'কেউ যেন একে অপরকে টেনে নামানোর চেষ্টা না করে। বিজেপি-কে রুখতে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতেই হবে।' লোকসভার বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট বলেন, 'জোটের অংশ হওয়া সত্ত্বেও কিছু দল প্রতিনিয়ত প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ ও নিশানা করে চলেছে। ভোট চুরি বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে যখন কংগ্রেস রাস্তায় নেমে লড়াই করছে, তখন জোটের কিছু বড় শরিক দলের কাছ থেকে আশানুরূপ সমর্থন বা সংহতি মিলছে না।'
ডিলিমিটেশন বিল আটকে দেওয়ার সাফল্য মনে করালেন খাড়গে
সম্প্রতি লোকসভায় ডিলিমিটেশন বিল আটকে দেওয়ার সেই বিরোধী জোটের জয়ের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, 'গত ১৬ এপ্রিল আমরা লোকসভায় অত্যন্ত ভাল ভাবে আমাদের একতা ও সংহতি প্রদর্শন করেছি, যখন আমরা সবাই মিলে মোদী সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ডিলিমিটেশন বিলটিকে দৃঢ়ভাবে হারিয়েছি। এখন আমাদের সেই ঐক্য ও লড়াইয়ের মানসিকতাকে আরও মজবুত করতে হবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে, যাতে মোদী সরকারের কুশাসনের কারণে দেশ যে সমস্ত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং বিদেশনীতি সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমরা জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি।'