• এক্সপ্রেসের স্টপেজ থেকে নতুন লোকাল, রেলমন্ত্রীর দরবারে লিস্ট নিয়ে হাজির কালনার বিধায়ক
    News18 বাংলা | ০৯ জুন ২০২৬
  • পূর্ব বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী ‘মন্দিরের শহর’ কালনার দীর্ঘদিনের রেল-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি এবার পৌঁছল কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর দরবারে। অম্বিকা কালনা স্টেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ চালু, নতুন লোকাল ট্রেন পরিষেবা, ওভারব্রিজ এবং আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব-এর কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন সিদ্ধার্থ মজুমদার। সম্প্রতি কলকাতায় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে কালনা ও সংলগ্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। স্মারকলিপিতে অম্বিকা কালনা স্টেশনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজের দাবি জানান হয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে পাহাড়িয়া এক্সপ্রেস, হাওড়া–বালুরঘাট এক্সপ্রেস এবং গরিব রথ এক্সপ্রেস। বিধায়কের দাবি, কালনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এখনও বহু গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন এখানে থামে না। ফলে সাধারণ যাত্রী, চাকুরিজীবী, ছাত্রছাত্রী এবং পর্যটকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। স্মারকলিপিতে শুধু এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ নয়, স্থানীয় যাত্রীদের দৈনন্দিন দুর্ভোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সকালবেলায় অফিসযাত্রীদের সুবিধার জন্য কাটোয়া থেকে শিয়ালদহগামী এবং সন্ধ্যায় শিয়ালদহ থেকে কাটোয়াগামী অতিরিক্ত লোকাল ট্রেন চালুর দাবি জানান হয়েছে। পাশাপাশি কাটোয়া–ব্যান্ডেল শাখায় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লোকাল ট্রেনের ব্যবধান থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

    যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করতে ওই সময়সীমায় নতুন লোকাল ট্রেন চালুর আবেদন জানিয়েছেন বিধায়ক। এছাড়া কালনা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ৯ নম্বর স্পেশাল ইন্দিরাবাজার রেলগেটে একটি ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কালুর দোকান মোড় থেকে দমকল কেন্দ্র এলাকা পর্যন্ত এই উড়ালপুল নির্মিত হলে শহরের যানজট অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জিউধরা রেলগেট এলাকায় যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে একটি আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিও জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেট বন্ধ থাকলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, যার ফলে নিত্যদিনের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়।

    বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার জানিয়েছেন, তিনি কালনার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলি রেলমন্ত্রীর সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন এবং রেলমন্ত্রী বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অম্বিকা কালনা স্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, কালনা থেকে সরাসরি উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের সুযোগ বাড়লে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটন শিল্প ও স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে। তাই রেলমন্ত্রীর কাছে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়ার ঘটনাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন এলাকার মানুষ। এখন তাঁদের নজর রেলের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)