• তদন্তের মুখে পাহাড়ের ১৬টি বোর্ড, ছাড় পাবে না জিটিএ-ও! তোপ অগ্নিমিত্রার
    প্রতিদিন | ০৯ জুন ২০২৬
  • পাহাড়ের জল সমস্যা থেকে আইডিডিএস সেন্টার, মিরিক লেক, দুধিয়ার নতুন সেতু পরিদর্শন করলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোমবার সকাল থেকে তিনি পাহাড় চষে ফেলেন। প্রথমেই গিয়েছিলেন মহাকাল মন্দির, সেখানে পুজো দিয়ে পাহাড়ে ঘোরা শুরু করেন। তার সঙ্গে ছিলেন সাংসদ রাজু বিস্তা। এদিন সব পরিদর্শনের পর বিগত সরকার জনজাতিদের নিয়ে যে ১৬টি পৃথক বোর্ড করেছিল তার তদন্ত হবে বলে জানিয়ে দেন অগ্নিমিত্রা। তিনি জানান, জিটিএ-ও তদন্তের আওতায় পড়বে।

    পাহাড়ের নানান সমস্যার মধ্যে জলসংকট হল মূল। তাই পাহাড়ে গিয়ে রবিবার পুরসভাগুলোর সঙ্গে বৈঠক সারেন পুরমন্ত্রী। সোমবার তিনি নিজে চলে যান সিনচেল এলাকায়। সেখানে জলের কাজ খতিয়ে দেখেন। কবে কাজ শেষ হবে, বর্তমান কী অবস্থা তার খবর নেন ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকে। এরপর তিনি হ্যাপি ভ্যালিতে একটি আইসিডিএস সেন্টার পরিদর্শন করেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে কোনও সমস্যা আছে কি না তার খোঁজ নেন। এরপরেই তিনি চলে আসেন মিরিক লেকে। লেক দেখে মুগ্ধ হন তিনি। এই লেকটাকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে কীভাবে সাজানো যায় তার একটা পরিকল্পনা করেন। সেখান থেকে তিনি বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে। সেখান থেকে মিরিকের কাছেই ইন্দো-নেপাল সীমান্ত নিয়ে পশুপতির মন্দিরে যান। সবশেষে তিনি চলে আসেন দুধিয়া। এখানে তিনি ব্রিজের কাজ দেখেন। এই ব্রিজটি গতবছর ভয়াবহ বর্ষায় ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু এখনও অবধি তা তৈরি হয়নি। এই ব্রিজের বর্তমান হালহকিকত নিয়ে খোঁজ নেন তিনি। কবে নাগাদ এর কাজ শেষ হবে তাও জেনে নেন।

    পরে বিগত রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে ঘুরতে আসতেন, কাজ কিছুই করতেন না। এই যে ১৬টা বোর্ড তিনি বানিয়ে টাকা দিতেন, তার হিসাব দিতে হবে। প্রতিটি বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। ছাড় পাবে না জিটিএও। আমাদের সরকার উন্নয়ন করতে এসেছে। আমরা কাজ করতে এসেছি, ঘুরে বেড়াতে নই। এই যে সিনচেলে আমুত প্রকল্পের কাজ চলছে দ্রুত এই কাজ শেষ হলেই পাহাড়ের জলের সমস্যা চিরতরে ঘুচে যাবে। আবার মিরিক লেকের পাশে যে পার্কের মতো রয়েছে সেটাকে আরও সুন্দর করে সাজাতে হবে। ওয়াইফাই লাগিয়ে দেওয়া হবে পর্যটকদের জন্য। আর দুধিয়া ব্রিজ ২০২৭-এর মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে। এছাড়া গত বর্ষায় যাদের বাড়ি ভেঙেছিল তাদের গত সরকার বাড়ি বানানোর জন্য মাত্র ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিল। বাকি ৬০ হাজার দেয়নি, সেটা তারা দ্রুত পেয়ে যাবে। আমি নির্দেশ দিয়েছি টাকাগুলো দিয়ে দেওয়ার জন্য।” মঙ্গলবার তার জলপাইগুড়ি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)