২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-খুন, ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা পুলিশের
বর্তমান | ০৯ জুন ২০২৬
সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: নাবালিকাকে ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনার ঠিক ৪১ দিন পর এফআইআর দায়ের করল ট্যাংরা থানার পুলিশ! আর জি করে অভয়া কাণ্ডের পর দেরিতে এফআইআর দায়ের করায় সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল কলকাতা পুলিশকে। তারপরও ট্যাংরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে লালবাজারের শীর্ষকর্তাদের ভূমিকায় বিস্মিত এরাজ্যের পুলিশ মহল।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২৩ এপ্রিল বিকেল ৩টে নাগাদ। রাজ্যে সেদিন প্রথম দফার বিধানসভা ভোট চলছিল। ট্যাংরা থানা থেকে ৫০০ মিটার দূরে এক নির্মীয়মাণ বহুতলের সিঁড়িতে বালির বস্তা থেকে উদ্ধার হয়েছিল দু’বছরের নাবালিকার নিথর দেহ। দেহটি উদ্ধার করেছিল ট্যাংরা থানার পুলিশ। পরে তাকে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, পরদিন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ট্যাংরা থানার অফিসারদের জানিয়ে দেন, ‘ওই নাবালিকাকে যৌন নিগ্রহের পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।’ আততায়ী প্রমাণ লোপাটের জন্য নাবালিকার দেহটি ওই বহুতলের সিঁড়িতে বালির বস্তার মধ্যে ভরে রেখেছিল। অভয়া কাণ্ডের পর কলকাতার বুকে এত বড়ো একটি অপরাধ হলেও ট্যাংরা থানা এফআইআর দায়ের করেনি। সূত্রের দাবি, ‘ভোটের সময় এই নৃশংস অপরাধের বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন লালবাজারের শীর্ষকর্তারা। শুধুমাত্র অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে ৪০ দিন ফেলে রেখেছিলেন তাঁরা।’
উল্লেখ্য, আর জি কর কাণ্ডে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তিরস্কারের পর নতুন পুলিশ কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মনোজ ভার্মা এই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, তবে কেন পুলিশ এমন জঘন্য অপরাধের পরও শুধুমাত্র অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে ফেলে রাখল? এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকে ফোন এবং মেসেজ পাঠানো হলেও কোনো উত্তর আসেনি।
ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার পর ঘটনার ঠিক ৪১ দিন বাদে গত ৩ জুন ট্যাংরা থানা অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীর বিরুদ্ধে পকসো আইনের ৬ ধারার পাশাপাশি ১০৩ (১) খুন, এবং ২৩৮ ধারায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা এখন কার্যত অন্ধকারে হাতরাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। ফলে আরও বিপাকে পড়েছেন গোয়েন্দারা। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের সন্দেহ, ওই নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ে কর্মরত রাজমিস্ত্রি এবং তাঁর জোগাড়েদের। তাঁরা এখন জানার চেষ্টা করছেন, ওই বহুতলে কর্মরত রাজমিস্ত্রিদের কেউ আচমকা উধাও হয়েছেন কি না।