ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ, আদৌ আসবে বুলডোজার? দক্ষিণ দমদমে জোর চর্চা
বর্তমান | ০৯ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: উত্তর শহরতলিতে বেআইনি নির্মাণের মৃগয়া ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে দক্ষিণ দমদম। তৃণমূল সরকারের আমলে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি সিবিআই, ইডি ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকারের দেওয়া ছবি ও তথ্য সহ ১১ পাতার চিঠি নিয়ে শোরগোল পড়েছিল। খোদ জেলাশাসক পুরসভাকে চিঠি দিয়ে ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছিলেন। কিন্তু বিপুল টাকা ও রাজনৈতিক প্রভাবে সব অভিযোগই ধামাচাপা পড়ে যায়। এখন বেআইনি নির্মাণ নিয়ে রাজ্যজুড়ে হইচই শুরু হতেই সেই অভিযোগ ফের উঠে এসেছে সামনের সারিতে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, দক্ষিণ দমদমে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কি এবার বুলডোজার চলবে, নাকি আগের মতোই টাকা নিয়ে আইনি ছাড়পত্র দেওয়া হবে, তা নিয়েই চলছে চর্চা।
২০০৯ সালে দক্ষিণ দমদম পুরসভা তৃণমূলের দখলে আসে। তারপর থেকেই পুরসভার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা তৃণমূলের হাতেই রয়েছে। মাঝে ২০১৪ সালে ১০ মাস এবং ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রশাসক বসানো হয়েছিল। ২০১৪ সালে পুরসভার প্রশাসক পদে ছিলেন বিধায়ক সুজিত বসু ও মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। পুরসভার অনুমতি ছাড়াই ব্যাঙের ছাতার মতো বহুতল গড়ে উঠেছে এই এলাকায়। এইসব নির্মাণের পিছনে রয়েছে তৃণমূল কাউন্সিলারদের মদত। শহরজুড়ে চলেছে প্রোমোটার রাজ। অভিযোগ, দক্ষিণ দমদমের বেশিরভাগ কাউন্সিলারই হয় নিজে, না হয় স্ত্রী কিংবা ঘনিষ্ঠদের নাম করে প্রোমোটারি ব্যবসা চালান। কোনো কাউন্সিলার আবার স্কোয়ার ফুট পিছু টাকা নেন বলে অভিযোগ। কাউন্সিলার ও প্রোমোটারদের যুগলবন্দিতে প্রতিটি ওয়ার্ডেই শ’য়ে শ’য়ে অবৈধ বহুতল গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ।
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, নিয়ম মেনে প্রথমে পুরসভা হয়তো চারতলার অনুমোদন দিল। কিন্তু কাউন্সিলারের মদতে সেটি হয়ে গেল আটতলা। পরে কাউন্সিলারের হস্তক্ষেপে ওই আবাসনের ‘রিভাইজড বিল্ডিং প্ল্যান’ পাশ হয়ে গেল। ফলে সরকারি শর্ত উপেক্ষা করেই আবাসন হয়ে গেল বৈধ। পাশাপাশি অবৈধ নির্মাণকে বৈধ করার আরও কৌশল রয়েছে। দমদম রোডের উপর এক কাউন্সিলারের অনুষ্ঠান বাড়ি রয়েছে। বাড়িটির নাম ‘নোলক’। সেই বিল্ডিংয়ের কোনো প্ল্যান নেই। দাগা কলোনি এলাকায় সোনার কেল্লা পার্কের পাশে একটি বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। শহরজুড়ে এমন অজস্র বেআইনি নির্মাণের ‘সিসি’ নেই। অভিযোগ, এভাবেই ফুলেফেঁপে উঠেছেন তৃণমূলের নেতারা। সিটুর রাজ্য কমিটির সদস্য তথা দক্ষিণ দমদমের বাসিন্দা সুশান্ত দেব বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে দমদম স্টেশনে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। অথচ, দমদম রোডে কাউন্সিলারের অনুষ্ঠানবাড়ি ‘নোলক’ ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। শুধু নোলক নয়, দক্ষিণ দমদমে এমন হাজার হাজার বহুতল বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছে। বিধায়ক অরজিৎ বকসি বলেন, নগরোন্নয়ন দপ্তর রূপরেখা তৈরি করছে। তাদের নির্দেশিকা এলে নিশ্চয়ই আইন মেনে পদক্ষেপ করা হবে।