নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুরের সাইডিংয়ে যেখানে রবিবার রাতে বুলডোজার চলেছে, সোমবার বিকেলে ঠিক সেখানেই দুই নাবালক সাইকেল চালাচ্ছে। ওরা স্কুলে যায়নি। কেন? জিজ্ঞেস করতেই তারা বলল, বাবা-মা বাড়ি খুঁজতে বেরিয়েছে তাই। একজন বলে উঠল, আমি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ফ্যান। অবুঝ মন বিশ্বকাপের ঘোরে। কিন্তু বাবা-মায়েরা রাতের লড়াইয়ে পরাজিত।
সেই রাতে বুলডোজারের সামনে হকার, ব্যবসায়ী, স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বামদল সমূহের নেতৃত্ব। ছিল কংগ্রেস। গ্রেপ্তার করা হয় সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য সহ পাঁচ জনকে। সকলেই সোমবার জামিন পেয়েছেন। নভেম্বরের ৩ তারিখ পরবর্তী হাজিরা। এদিকে, বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদের ঘটনায় সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন দোকানদাররা। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার দ্রুত শুনানির আরজি জানান আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। আজ মঙ্গলবার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, উচ্ছেদের রাতে বিভিন্ন বাম দল ও কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন। পুলিশের লাঠিচার্জে জখম হয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী সহ বহু প্রতিবাদী। সোমবার সৃজনদের আলিপুর কোর্টে তোলা হয়। তাঁদের সকলকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। বিকেলে যাদবপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল, সাইডিংয়ের বেশ কয়েকটি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যবসায়ী রাজা চৌধুরী বলছিলেন, আমাদের কাছে সবকিছুর কাগজ আছে। আমরা ৭০-৮০ সাল ধরে এখানে ব্যবসা করছি। নির্মাণ কাজে যা লাগে আমরা তা পাইকারি হারে বিক্রি করি। আমরা কোনো সিন্ডিকেট চালাই না। ওই ব্যক্তির দাবি, ‘রেল আমাদের ৯৯ বছরের লিজ দিয়েছে। এখনও সেই লিজ শেষ হয়নি। ওঁরা তো কাগজই মানছে না।’ দোকানের ঠিক পিছন দিকে অনেকের বাড়িও রয়েছে। সেই বাড়ির বাসিন্দা কুমকুম ঘড়াই বলছিলেন, ‘গতকাল রাতে যখন বুলডোজার নিয়ে এল। আমরা হাতে পায়ে ধরলাম। তারপর ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে গেল।’ তাঁদের কারও দাবি, এখানেই জন্মেছেন। এখানেই বহু বছর ধরে রয়েছেন।
এদিকে, সৃজন সহ পাঁচ জনের গ্রেপ্তারির পর সেই রাত থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থানে বসে এসএফআই। আলিপুর আদালতে সৃজনের সঙ্গে দেখা করতে যান ভাঙড়ের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাজ মানুষের রুজি-রুটির ব্যবস্থা করা। সেখানে কেড়ে নেওয়ার কাজ চলছে। হামলা চালিয়ে লাভ হবে না। লড়াই চলবে।’
এদিন দমদম, যাদবপুর, নৈহাটি সহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদের প্রতিবাদে মিছিল হয়। সৃজন জামিন পেয়ে চলে যান যাদবপুরে। সেখানে মিছিলে যোগ দিয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্র তার সমস্ত ক্ষমতা নিয়ে কার্যত গৃহযুদ্ধ লাগিয়েছে। আমরা কোর্টে ২ তারিখ কাগজ দেখিয়েছিলাম। কোর্ট খোলার পর ২১ দিন সময় দিয়েছিল। তার আগে কোর্ট এড়িয়ে এটা করল মানে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে ভয় পেল।’ নিজস্ব চিত্র