তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু ঠেকাতে বরোভিত্তিক টিম, বর্ষার প্রস্তুতি বৈঠকে গরহাজির বহু কাউন্সিলার
বর্তমান | ০৯ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর কয়েক দিনের মধ্যেই বর্ষা প্রবেশ করবে দক্ষিণবঙ্গে। তাই বর্ষা সংক্রান্ত সমস্যা, নাগরিক দুর্ভোগের মোকাবিলায় উত্তর কলকাতার সাতটি বরো এলাকার প্রতিনিধিদের নিয়ে সোমবার বেলগাছিয়ার মোহিত মৈত্র মঞ্চে বৈঠক হয়। সেখানে ঠিক হয়েছে, জমা জলে তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু ঠেকাতে বরো স্তরে যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। পুরসভার বিল্ডিং, আলোকায়ন, সিইএসসি, দমকল এবং পুলিশকে নিয়ে প্রতিটি বরোয় একটি করে কমিটি তৈরি হবে। পাশাপাশি, জল জমার সমস্যাপ্রবণ বিভিন্ন স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার থেকে জায়গাগুলি ভিজিট করবেন অফিসাররা। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। এদিকে, এই বৈঠকে ৫৯ জন কাউন্সিলারের মধ্যে মাত্রা ২৭ জন উপস্থিত ছিলেন। তার মধ্যে তিনজন বিজেপির। বাকি ২৪ জন তৃণমূলের। প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাউন্সিলার এবং বিধায়ক পুর-কমিশনারের ডাকা এই বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে পুর-কমিশনার স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু ঠেকাতে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বৈঠক করেছিলেন। আমরা ঠিক করেছি, বরোভিত্তিক কমিটি হবে। তাঁরা ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তা, অলিগলি ঘুরে দেখবেন। কোথায় কোন ল্যাম্পপোস্ট বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করে মেরামতি করা হবে। প্রয়োজনে সেখানে সতর্কতামূলক বোর্ড ঝুলিয়ে দিতে হবে। সিইএসসি-কে হাইভোল্টেজ ফিডার বক্সে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজিতে সতর্কতামূলক বোর্ড লাগানোর অনুরোধও করা হয়েছে।’
তবে এই বৈঠকে নজর কেড়েছে তৃণমূলের অর্ধেকের বেশি কাউন্সিলারের অনুপস্থিতি। ৫৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলারের মধ্যে হাজির ছিলেন মাত্র ২৪ জন। তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে চৌরঙ্গীর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাও গরহাজির ছিলেন। যদিও কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘সাতটি বরোর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বিধায়কসহ জনপ্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। কয়েক জন কাউন্সিলার না এলেও বর্ষা মোকাবিলার প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা হবে না।’ তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার থেকেই শুরু হবে যৌথ পরিদর্শন। কোথায় বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক তার রয়েছে, কোথায় জল জমার আশঙ্কা বেশি—এসব চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এছাড়াও একটি ই-মেল আইডি চালুর কথা ঘোষণা করেন স্মিতা পাণ্ডে। সেখানে কাউন্সিলার ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি এলাকার সমস্যা ও প্রস্তাব জানাতে পারবেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তেওয়ারি, বিজয় ওঝা। তাঁরা বলেন, ‘এর আগে এমন বৈঠক মেয়র, মেয়র পারিষদ করেছেন। কিন্তু এভাবে বিধায়কদের নিয়ে আরও বড়ো আকারে বৈঠক কোনোদিন হয়নি। কাজের গতি বাড়বে।’ বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘রাজনীতি তার জায়গায়, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক। আমাদের এলাকাতেও এখনও কিছু জায়গায় জল জমার সমস্যা রয়েছে। তাই আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করাটাই জরুরি মনে করেছি।’ বর্ষাকালীন প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসন সক্রিয় হলেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বেশিরভাগ কাউন্সিলারের অনুপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশাসন অবশ্য আশ্বস্ত করে বলছে, এসবের কোনো প্রভাব পরিষেবায় পড়বে না।