• নিউটাউনে ‘ডেলিভারির লোকেশন’ জানার অছিলায় প্রতারকদের কল, হ্যাক আইএএস অফিসারের ফোন
    বর্তমান | ০৯ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন। রিসিভ করতেই বলে, ম্যাডাম আমি ডেলিভারি বয়। একটি পার্সেল আছে। কিন্তু, আপনার ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছি না। এ কথা বলার পরই লোকেশনের জন্য ওই ডেলিভারি বয় তাঁকে একটি নম্বরে ডায়াল করতে বলে। ডায়াল করতেই ফোন হ্যাক যায় নিউটাউনের এক আইএএস অফিসারের। তারপর তাঁরই ‘কনট্যাক্টস’ ব্যবহার করে টাকা চেয়ে মেসেজ করা হয়। চারজনের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়েও নেয় হ্যাকাররা। পরে বিষয়টি নজরে আসার পর ওই মহিলা অফিসার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। শুরু হয়েছে তদন্ত। অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। প্রতারণার টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

    কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরাই ডেলিভারি বয় পরিচয় দিয়ে ওই অফিসারকে ফোন করেছিল। লোকেশন জানার জন্য তারা ওই অফিসারকে একটি ১২ ডিজিটের নম্বর দেয়। তার সঙ্গে আরও দু’টি ‘স্টার’ এবং একটি ‘হ্যাসট্যাগ’ ছিল। লোকেশন শেয়ার হয়ে যাবে, এই ভেবে ওই অফিসার সেই নম্বরে ডায়াল করেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক করে প্রতারকরা। তারপরই তাঁর ফোনের অ্যাকসেস তাদের হাতে চলে যায়। সেই সুযোগে হ্যাকাররা তাঁদের কনট্যাক্টসে থাকা অনেকের কাছে টাকা চেয়ে মেসেজ করে। প্রতারকদের দেওয়া ফোন নম্বরে তাঁরা ইউপিআই করেন। তাঁরা ভাবেন, সত্যিই মেসেজ। কোনো প্রয়োজনে হয়ত তিনি ওই মেসেজ পাঠিয়েছেন। একজন ২৫ হাজার, আরেকজন ৫৮ হাজার এবং একজন দু’দফায় ৩০ হাজার এবং ২৮ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।

    পরে ওই অফিসারের ছেলের কাছে একটি ফোন আসে। তাঁকে একইভাবে বলা হয় ডেলিভারির কথা এবং লোকেশনের কথা। তখন তাঁরা বুঝতে পারেন, প্রতারকরা এই কাজ করছে। তারপর পুরো বিষয়টি সামনে আসে। যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, যে নম্বরগুলি থেকে টাকা চাওয়া হয়েছে, যে নম্বরে পরিচিতরা ইউপিআই করেছেন, সেই সমস্ত মোবাইল নম্বর অভিযোগপত্রে ওই অফিসার দিয়েছেন। সেই সমস্ত ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এবং টাকা স্থানান্তরের ডিজিটাল নথিপত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)