ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে চড়াদামে 'প্রি-পুজো টিকিট' বিক্রি ! সস্ত্রীক ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
eTV Bharat | ০৯ জুন ২০২৬
কলকাতা, 9 জুন: দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে ভিআইপি টিকিট বিক্রির অভিযোগ ৷ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের বৌবাজার থানায় ৷
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ইউনেস্কো স্বীকৃতির নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে একটি অবৈধ বাণিজ্যিক চক্র পরিচালনা করা হচ্ছিল। সোমবার কলকাতা পুলিশের কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং বউবাজার থানার কাছে বিস্তারিত অভিযোগ জমা দেয় আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা মেঘদূত ফাউন্ডেশন।
সংস্থার কর্ণধার জয়দীপ মুখোপাধ্যায় ও সগুনা মুখোপাধ্যায় অভিযোগে জানান, দুর্গাপুজোর আগে বিশেষ প্রিভিউ-শো বা আগাম মণ্ডপ দর্শনের নামে উচ্চমূল্যে ভিআইপি টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল ৷ এই বিষয় নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "অভিযোগ হয়েছে। তবে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখতে হবে ৷ অভিযোগ অনুযায়ী ধারা যুক্ত করার কাজ বাকি আছে ৷"
অভিযোগপত্রে ইন্দ্রনীল সেন ও মধুছন্দা সেন ছাড়াও ধ্রুবজ্যোতি বসু (শুভ), সায়ন্তন মৈত্র এবং রাজন চট্টোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে ৷ অভিযোগকারীদের দাবি, এই টিকিট বিক্রির প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হলেও, বাস্তবে এই ধরনের কোনও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনও সম্পর্ক নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের সমর্থনে একাধিক নথি, সরকারি ই-মেল এবং আইনি দলিল জমা দেওয়া হয়েছে। ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে, ইউনেস্কো কখনও এই ধরনের টিকিট বিক্রি বা বাণিজ্যিক উদ্যোগের অনুমোদন দেয়নি। ফলে ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর 'ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ' স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সেই মর্যাদাকে বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, পুজোর মরশুমে সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড়ের আগে বিশেষ প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে জমা পড়া নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার পরিচয় অপব্যবহারের মতো অভিযোগগুলিও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেন বা অভিযুক্ত অন্যদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন ও পুজো মহলের।