সন্তোষপুর, 9 জুন: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন রেল স্টেশনে চলছে হকার উচ্ছেদ ও রেলের সম্পত্তি দখলমুক্ত করার অভিযান। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রইল এবার দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার সন্তোষপুর রেল স্টেশনে ৷স্টেশন চত্বরে সোমবার রাতভর চলল বড়সড় হকার উচ্ছেদ অভিযান। জিআরপিকে সঙ্গে নিয়ে অস্থায়ী দোকানগুলোকে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হল।
রেল প্রশাসনের দাবি, স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমি জবরদখল করে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক দোকান গড়ে উঠেছিল। সোমবার রাতে সেই সমস্ত বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে অভিযান চালায় রেল কর্তৃপক্ষ। রাত প্রায় 10টা নাগাদ শুরু হওয়া এই অভিযান চলে গভীর রাত পর্যন্ত। অভিযানে উপস্থিত ছিল রেল পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী।
কোনওরকম অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোটা স্টেশন চত্বরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। প্রথমে দোকানগুলির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর বুলডোজার ও অন্যান্য যন্ত্রের সাহায্যে একে একে ভেঙে ফেলা হয় জবরদখল করে গড়ে ওঠা দোকানগুলি। শুধু স্টেশন লাগোয়া এলাকাই নয়, প্ল্যাটফর্মের উপর থাকা বেআইনি কাঠামো ও দোকানও সরিয়ে দেন রেল কর্মীরা।
রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্টেশন এলাকাকে দখলমুক্ত ও যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। সন্তোষপুর স্টেশনের এই উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। রেল সূত্রে খবর, আগামিদিনেও রাজ্যের আরও বিভিন্ন স্টেশনে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, শিয়ালদা, দমদম, বেলঘড়িয়া, যাদবপুর-সহ বিভিন্ন রেল স্টেশনে এই হকার উচ্ছেদ অভিযান চলেছে ৷ রবিবার মাঝরাতে যাদবপুরে হকার উচ্ছেদ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। উচ্ছেদে বাধা দিলে রেল পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। যাদবপুর স্টেশন সহ-সংলগ্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে সিপিএম ৷ কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠির আঘাতে বেশ কয়েকজন সিপিএম নেতা জখম হন। গ্রেফতার করা হয় এসএফআই কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য-সহ 15 জনকে।
এমনকি যাদবপুরে হকার উচ্ছেদের জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত ৷ ব্যবসায়ীরা গ্রীষ্মকালীন ছুটির বিশেষ বেঞ্চে মামলা করেন সোমবার ৷ মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয় ৷ মঙ্গলবার মামলাটির শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য।